পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সঙ্গীতের চর্চা নিত্যাক্রিয়া ছিল। পিতৃদেব ব্ৰজনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট পাখোয়াজ শিক্ষা করিতেন। সভা ভঙ্গের পর গুরু শিন্যে মিলিয়া এই কাণ্ড হইতে ; রাত্রি দ্বিপ্রহর হইয়া যাইত ; তৎপূর্বেই আমি অবশ্য শয়নাগারে গমন করিতাম । এই যে স্কুল-পাঠশালা-প্ৰতিষ্ঠা ইহাতে পিতৃদেবের কৃতিত্ব ত ছিলই, সরকার বাহাদুরের সাহায্য এবং উৎসাহদান বিলক্ষণ ছিল । সংস্কৃত কলেজে তখন বিদ্যাসাগর মহাশয় অধ্যক্ষ । তিনি সেই অধ্যক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে বাঙ্গালা স্কুল স্থাপনের, রক্ষণের ও শাসনের ভর কয়েকটি জেলার মধ্যে পাইয়াছিলেন । হেড পণ্ডিত তিনজনকে তিনি পাঠাইয়া দেন । নদীয়া জেলার ডেপুটি ইনস্পেক্টর হইয়াছিলেন, পাণ্ডুয়ার নিকট বেলুনের রামলাল মিত্র। তিনি সংস্কৃত কলেজের সংস্কৃতজ্ঞ ছাত্র। কাজ চালানমত ইংরাজি অবশ্য জানিতেন ; কি ইংরাজি, কি বাঙ্গালা, কি পেনে, কি শরে, তিনি মুটকলমে, কলমের উপর তর্জনীর ভর দিয়া লিখিতেন। উড়েরা সকলেই এইরূপ লেখেন ; বাঙ্গালা টোলের ছাত্রেরা কখন কখন ঐ রূপ লেখেন । সাহায্য-প্ৰাপ্ত স্কুল স্থাপনার জন্য ভার পাইলেন। হজসন প্রাট। তঁহার দক্ষিণ হস্ত ছিলেন শ্ৰীরামপুরের কালিদাস মৈত্র। সেই সময় বাঙ্গালাময় স্কুল বসাইবার ধুম পড়িয়া গেল। এখানে স্কুল, সেখানে স্কুল, চারিদিকে স্কুল, বিদ্যা বিতরণের জন্য সরকার বাহাদুরের ব্যগ্রতা ও ব্যয়-বাহুল্য দর্শনে লোকে বিস্মিত হইল, মহাকৃতজ্ঞতা প্ৰকাশ করিল। এখনকার দিনে হইয়াছে, মাছি পড়িয়াছে জাল গুটিাও গুটাও । লেখাপড়া শিখিয়া লোকে বিদ্রোহী হইতেছে, বাচাল হইতেছে ; লেখা পড়ার বিস্তার কমানই ভাল । তাই এখনকার দিনে সেই পুরাণ কথাগুলি মনে পড়ে, আর মনে হয়, সেই এক দিন, আর এই এক দিন। যেমন সাহায্যপ্ৰাপ্ত বিদ্যালয় বসিল, তেমনই সঙ্গে সঙ্গে হজসন প্রাটু সংবাদপত্রে সাহায্যদান করিতে অগ্রসর হইলেন । তৎপূর্বে যে সংবাদপত্র ছিল না। এমন নহে এবং সংবাদপত্রের যে প্রসার-প্ৰতিপত্তি ছিল না তাও নহে । তবে গবৰ্ণমেণ্টের কথা লোককে বুঝাইবার জন্য একখানি সংবাদপত্রের প্রয়োজন বোধ হওয়াতে গভর্ণমেণ্ট ওব্রাইনন স্মিথকে সাহায্য দান করিতে প্ৰতিশ্রুত হইলেন, ওব্রাইনন স্মিথ সংবাদপত্ৰ প্ৰকাশিত করিলেন । তখন খৃষ্টানির সংবাদপত্র ছিল, জ্ঞানকিরণোদয় প্ৰভৃতি। ধৰ্ম্মের জন্য ছিল, এক পক্ষে সমাচারচন্দ্ৰিকা ! উহা দৈনিক । অন্য পক্ষে ছিল, তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা । উহা মাসিক । আর সাধারণ সংবাদ বহন রসভাষী সঞ্চালনের জন্য ছিল, এক দিকে “প্ৰভাকর, অন্য দিকে ভাস্কর। তখন আমি চন্দ্ৰিক দেখি নাই। পড়িতাম তত্ত্ববোধিনী ও মাসিক প্রভাকর। দৈনিক প্ৰভাকরে সংবাদ আদি থাকিত আর সরিফসেলের বিজ্ঞাপন থাকিত । উহা আমি বড় পড়িতাম না । প্ৰতি মাসের প্রথম R è