পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিত না ? করিত বৈ কি। যাহার উন্নতি করিবার উপায় থাকিত, সেই কারিত । আকাশে ফাদ পাতিয়া চাদ ধরিতে যাইত না, শুধু হাড়িতে পাত বাধিয়া, ব্যবসায়ের ধুমধাম করিত না। দরিদ্র ? ভদ্র সন্তানের মধ্যে এখন অপেক্ষা দরিদ্রের সংখ্যা অনেক বেশী ছিল ; কিন্তু লক্ষ্মীছাড়ার সংখ্যা অত্যন্ত কম ছিল। ভদ্ৰ-শ্রেণীর মধ্যে ছিল না বলিলেই হয় ৷ 'লক্ষ্মীছাড়া” “ছোট লোক’ প্ৰায় একই পৰ্য্যায়ের গালি छिल । আমাদের পাড়ার পাথু চাটুয্যে মহাশয় অতি দুঃখী ছিলেন। তঁহাকে দীন দুঃখী না বলিয়া, দিন-দুঃখী বলিলে বোধ করি ঠিক হয়, কেননা তিনি প্ৰতিদিনই দুঃখী । চাটুয্যে মহাশয়ের ঘরে কিছু নাই, সকাল করে সন্ধ্যা আহ্নিক সারিয়া আটহাতী কাপড়খানির কেঁচটি বাম হাতে ধরিয়া, ডান হাতে তুড়ী দিতে দিতে, নিজের পদস্থ চটির তালে গুনগুন করিয়া গান করিতেছেন, ও একটু প্ৰকাশ্য পথে পাদ-চারণা করিতেছেন । সেই চটি কত দিনের কেহ বলিতে পারিত না ; শুকর সময় চাটুয্যে মহাশয়ের পদানত, বর্ষাকালে চালের বাতায়,-শীর্ষস্থানীয়। তবে এক পাৰ্থে বটে । তখন লোকে ভিজা জুতা পায়ে দিবার সানিটেশন পর্ব পাঠ করে নাই। চাটুয্যে মহাশয়ের সেই চটুচন্টু পাদ-চারণাতেই বুঝা যাইতেছে, তাহার গৃহ অন্ত তণ্ডুল-কণাশূন্য। তখন সমজাদার লোক ছিল, দরদের দরদী ছিল ; উহারই মধ্যে একজন চাটুয্যে মহাশয়কে গোপনে ডাকিয়া লইয়া গিয়া একটি দুয়ানি বা দুই সের তণ্ডুল দিল । চাটুয্যে মহাশয় হাসিবেন, কি আশীব্বাদ করিবেন, স্থির করিতে পারিতেন না। শেষে বাম হাতে চাল বা পয়সা সামলাইয়া, সেই তুড়ী দিবার দক্ষিণ হস্ত তুলিয়া মৌন আশীব্বাদ করিয়া হাস্যমুখে হন হন করিয়া চলিয়া গেলেন । আহারের পর অশীতিপর বৃদ্ধ তাদের সঙ্গে গান গাহিতেছেন, হাস্য করিতেছেন, নৃত্যু করিতেছেন- কাল যে BBDBD DB gBBBBSDDgBDDSDSDD S YkD DB BOB uDS আমরা সেই সন্তোষের সমাজে, সেই সুখের সমাজে, সেই আনন্দের সমাজে, সন্তোযেই গড়া-পিট হইয়াছিলাম। তখন সেই সন্তোষ থাকাতে, সমাজে কতই না স্মৃত্তি, কতই উৎসাহ, গান বাজনা, খেলা-ধূলা, কুস্তি করতপ,-কতই না ছিল ! কাজেই আমরা বুঝিয়েছিলাম-সুখই জগতের নিয়ম, দুঃখ ব্যভিচার মাত্র। সুখের চোথে সকলই সুন্দর দেখায়। অতি বাল্যকালে, ঘোর কাঞ্চার সহিত বজ স্ফোট হইলে, বুক ধড় ধড় করিত, কিন্তু সেই বুকের ভিতর তবু একরূপ আনন্দ উপভোগ করিতাম । পিতার নিকট শুনিতাম,-গ্ৰহ উপগ্ৰহ নক্ষত্র তারকা সকলই মহাসমৃঙ্খলায় আবদ্ধ ও নিয়োজিত-আকাশের সৌন্দৰ্য বুঝি তাম, শৃঙ্খলা মানিয়া লইতোম। পিতা দেখাইতেন, দুঃখের অপেক্ষা সুখ অনেক গুণে বেশী । বুঝিয়াছিলাম জগৎ সুন্দর,