পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এক বৎসর কাল কৰ্ম্ম করিবার অনুমতি দিলেন । বাৰাকে প্রার্থনা করিতে হয় নাই । সেই এক বৎসরের যখন ১০ মাস পূর্ণ হইল, তখন ওজৰ উঠিল যে, গঙ্গাচরণবাবুকে গবরমেণ্ট আর অতিরিক্ত সময় দান করিবেন না। ঢাকার অধিবাসীদের তখন যেন চমক ভাঙ্গিল, তবে তা আমরা গঙ্গাচরণবাবুকে হারাইব ! সুতরাং ত্যাহারা সকলে মিলিয়া, মহামান্য হাইকোর্টের বিচার কদিগের সমীপে স্যা য় প্রার্থনা করিয়া দরখাস্ত করিলেন । আমি যে কথাটা উপরে বলিতেছিলাম, সেই কথাটা অতি সংক্ষেপে দ্বারখাস্তে দেখা ছিল । "That as an instance of his power of endurance aid patience, your Memorialists do not deem it out of place to inform your Lordships, that even at this age, Babu Gunga Charan Sircar, is never seen to adjourn the court, to take a short respite, but is observed to be always at his work and engaged in the discharge of his duties till dusk,' এই প্রার্থনার ফল হইয়াছিল । গরমেণ্ট আর দেড় বৎসর কাল সময় দেন । পিতা ১৮৮২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পান । তাহার পর ঢাকার সকল সম্প্রদায় সাড়ম্বরে পিতাকে বিদায় দেন । সেই বিদায় গ্রহণের জন্য পিতাকে ১৮৮৩ সালের জানুয়ারি মাসেও ঢাকায় থাকিতে হইয়াছিল । দেশীয় বিদেশীয় সকল কৰ্ম্মচারী নিজ কৰ্ম্ম হইতে অবসর পাওয়ার পর, সেরূপ আদিয়া অভ্যর্থনা পাইয়াছেন, এমন কথা আমি জানি না । এক কলিকাতার রিপন বিদায় উৎসব ছাড়া, আর বোধ করি, কটকের র্যাবেক্ষস বিদায়ের কথা ছাড়া, আর কোথাও যে এরূপ হইয়াছে, তাহা আমি জানি না । একমাস কাল ধরিয়া সমগ্র ঢাকা-নগরী সমূদ্র সাগরের মত কল্পোলের রোল তুলিয়া উচ্ছসিত হইয়াছিল। 匣 এই সময়ের একটি বিশেষ ঘটনার কথা বলিবার পূৰ্ব্বে, পিতার মনে ধিশ্বাস কিরূপ ছিল, এবং সাধারণত নিষ্ঠা, আস্থা, বিশ্বাস কি পদাৰ্থ- সে সম্বন্ধে কিছু दठिंडछि । কৰ্ম্মে নিষ্ঠা, আপ্তবাক্যে আস্থা থাকিলে মনে বিশ্বাস হয়, অথবা বিশ্বাস দৃঢ়ীভূত হয় । আমাদিগের আস্থা ও নিষ্ঠা কমিতেছে বলিয়া, আমাদের বিশ্বাসও কমিতেছে। কৰ্ম্ম তখন ও লোক করিত, এখনও লোক করে ; কিন্তু তখন যেমন প্ৰাণের সহিত, জিদের সহিত, নিষ্ঠার সহিত, লোক কৰ্ম্মে লাগিয়া থাকিত, এখন আর সেরূপ প্ৰায় দেখা যায় না । যেন আলগা আলগা, শিথিল ভাবে, অনেককে কৰ্ম্মে অনুসরণ করিতে দেখা যায়। কৰ্ম্ম না করিলে নয়, তাই করিতেছি, এইরূপ কথা সকলেরই 邯敬