পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বালক সিড়ী লইয়া টানাটানি করিয়াছিল। আমি তাহদের মধ্যে একজন ছিলাম, সুতরাং কিল দেওয়া অপেক্ষা কিল খাওয়া আমার ভাগ্যে অধিক ঘটিয়াছিল । ছুটির পর স্কুল আবার বসিলে এ-বিষয়ের তদন্ত আরম্ভ হইল। কাউয়েল সাহেব বড় বাড়ি হইতে তদন্তু করিতে আসিলেন। তিনি যখন ক্লাসের মধ্যে দাড়াইয়া ধীর গম্ভীর স্বরে বলিলেন, ‘কে কে দাঙ্গাতে ছিলে উঠিয়া দাড়াও,” তখন তঁহার সেই সাধুতাপূর্ণ মুখের দিকে চাহিয়া আমি যেন আর না দাড়াইয়া থাকিতে পারি না ; কে যেন ঠেলা দিতে লাগিল। কিন্তু চারিদিকে চাহিয়া দেখিলাম, ক্লাসের আর কোনো ছেলে উঠে না, ইতস্তত করিতে লাগিলাম। অবশেষে সাহেব বলিলেন, "তবে কি আমি বুঝিব, তোমরা কেহ দাঙ্গাতে যাও নাই ? যে যে গিয়াছ छटिश iिg७ ।” আমি আর না দাড়াইয়া থাকিতে পারিলাম না, উঠিয়া দাড়াইলাম। সাহেব বলিলেন, "তুমি কি এক দাঙ্গাতে গিয়াছ ?” আমি বলিলাম, “ক্লাসের সকলেই গিয়াছিল।” ইহার পর সাহেব ক্লাসসুদ্ধ বালকের দুই টাকা করিয়া জরিমানা করিলেন, এবং আমাকে তঁহার গাড়িতে তুলিয়া বড় বাড়িতে তাহার ঘরে লইয়া গিয়া বলিলেন, “তুমি সত্য বলিয়াছ বলিয়া মার্জনা করিলাম, কিন্তু দাঙ্গাতে গিয়া ভালো কর নাই ।” আরও অনেক সদুপদেশ দিলেন। তিনি যখন আমার মাথায় হাত দিয়া বলিলেন, “তুমি ভালো ছেলে, আমি তোমার ব্যবহারে সন্তুষ্ট হইয়াছি,” তখন ভালো ছেলে হইবার বাসনা যে মনে কত প্ৰবল হইল, তাহা বলিতে পারি না । ফলতঃ, আমি তখন মিথ্যা বলিতে পারিতাম না ; বড় জোর মৌনী থাকি,তাম, অসত্য বলিতাম না । ইহারই কিঞ্চিৎ পরবর্তী কালের আর একটি কথা স্মরণ আছে, তাহা এই প্রসঙ্গেই উল্লেখ করি। তখন আমি সিদ্ধেশ্বর চন্দ্রের লেনে মাতুলের নিকট থাকি। বাসার বড়-বড় ছেলেরা আমাকে তামাক খাইতে শিখাইয়াছিল । নিজে তামাক খাইয়া আমার হাতে হুকাটি দিয়া বলিত, “টান ।” প্ৰথম প্ৰথম টানিয়া ঘুর লাগিত, তবু শখের জন্য টানিতাম। একদিন তামাক টানিয়া বড়মামার নিকট বাজারের পয়সা আনিতে গিয়াছি, তিনি তামাকের গন্ধ পাইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুই তামাক খাস?” আমি মস্তক সঞ্চালন করিয়া বলিলাম, “ই ।” তারপর তিনি প্রশ্ন করাতে যেরূপে যেরূপে তামাক খাইতে শিখিয়াছি, ও যত বার খাই, সমুদয় বর্ণনা করিলাম। তখন আমার বয়ঃক্রম তেরো বৎসরের অধিক হইবে না। মাতুল শুনিয়া বাসার লোকের প্রতি আতিশয় ক্রুদ্ধ হইলেন, এবং আমাকে তামাক না খাইবার জন্য প্ৰতিজ্ঞাবদ্ধ করিলেন । আমি তদবধি আর তামাক খাই নাই । কিন্তু একবার একটি মিথ্যা বলিয়া মাতুলকে প্ৰবঞ্চনা করিয়াছিলাম, তাহা যথাস্থানে বলিব । কবিতায় হাতে খড়ি। জেলিয়াপাড়াতে অবস্থিতি কালের একটি কৌতুকজনক ঘটনা স্মরণ আছে। আমাদের ক্লাসে গঙ্গাধর নামে একটি ধনী সন্তান পড়িত। সে বড় 88