পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকাল ব্ৰহ্মচৰ্য্য রক্ষা করিতে হয় । সমস্ত জীবন অসীম আনন্দ উপভোগ করিতে হইলে চিরকাল ব্ৰহ্মচৰ্য্য রক্ষা করিতে হয়। সমস্ত জীবন অসীম আনন্দ উপভোগ করিতে হইলে সমস্ত জীবন ব্ৰহ্মচারী থাকিতে হয়, বিধাতার এই বিধান । এই সব ভাবিতে ভাবিতে আবার যেন সেই জন্মস্থানে সেই রকম বালক হইয়া সেই রকম বাল্যলীলায় মত্ত হইয়া ঠিক সেই রকম নিৰ্ম্মল বাল্যানন্দে ভরপুর হইয়াছি- কি সুখ, কি নিৰ্ম্মল, নির্দোষ ঠাণ্ডা, বিশুদ্ধ সুখ ! বাল্যকালের সৌন্দৰ্য্য বালকে বুঝিতে পারে না, বৃদ্ধে বুঝিতে পারে। বৃদ্ধে যখন বুঝিতে পারে, তখন বাল্যকালের সৌন্দৰ্য্য আরও সুন্দর হইয়া দাড়ায় ; যৌবন ও বাদ্ধক্যের আবিলতা অনুভূত হইয়া যাওয়ায়, যাহা নিৰ্ম্মল, যাহা বিশুদ্ধ, তাহার আদর আরও বাড়িয়া যায়, তাহার পবিত্ৰতা আরও বেশী অনুভূত হয়। তখন বাৰ্দ্ধক্যের রোগ শোক দুঃখ কোথায় চলিয়া যায়, তৎপরিবর্তে সেই আনন্দপূর্ণ বাল্যকাল আবার আসিয়া পড়ে। সেই সঙ্গে আবার সেই অপূর্ব নিৰ্ম্মল আনন্দ উপভোগ হইতে থাকে। নোনা পেত, মনসাপোতা, ধনপোতা, চারিদিকে ধানক্ষেত, মাঝখানে খানিকটা করিয়া উচু জমি, তাহাতে চাষ হইত না, গরু, চরিত, আর আমরা খেলা করিতাম ! নোনা পেতা আমাদের বাড়ীর অতি নিকটে, ঘরে শুইয়া বসিয়া দেখিতাম । সেখানে বড় বড় অশ্বখ গাছ আছে, নোনা গাছ কখনও দেখি নাই। মধ্যে মধ্যে শুকনা পাতা ঘুরিতে ঘুরিতে উড়িত, আর রাত হইলে আপনা। আপনি জ্বলিয়া উঠিত। তাই প্ৰৌঢ়ী ও বৃদ্ধারা বলিতেন, নোনাপোতায় ভূতপ্ৰেতি আছে । আমরাও নোনা পেতার নামে একটু কঁপিয়া উঠি তাম-তাই ভাবিয়া এখন কত আনন্দ । যে নোনাপোতায় ভূতপ্রেতের বাস, সেই নোনাপোতায় বলদের তাবু ফেলিয়া* দু এক দিন করিয়া বাস কারিত । যতক্ষণ তাহারা থাকিত, ততক্ষণ আমরা নোনা পেতাকে ভয় করিতাম না । প্ৰত্যুষে উঠিয়া গিয়া তাহদের তাবুর ভিতর বসিয়া থাকিতাম। দেখিতাম, এক যায়গার ধান চাল আর এক যায়গায় যাইতেছে ; বুঝিতাম না কেন যায়। কিন্তু যাহারা লইয়া যাইত, তাহাদিগকে দেখিয়া, আমরা শিশু, আমাদের ভূতের ভয় পৰ্য্যন্ত পলাইয়া যাইত। এখন বুঝিয়াছি ক্ষুধাৰ্ত্তের মৃত্যুভয় পলাইয়া যায়। মনে মনে বাসনা হইত, তাহারা যেন ঘন ঘন আমাদের ভূতেরা ডাঙ্গায় তাবু ফেলে। সেই নোেনাপোতায় আমার ভাইপো শ্ৰীমান সৰ্ব্বেশচন্দ্র সম্প্রতি একটী হাট বসাইয়া বহু গ্রামের বহু লোকের প্রভূত কল্যাণ সাধন করিয়াছেন । তিনি দীর্ঘজীবী হউন । মনসাপোতা আমাদের বাড়ী হইতে কিছু দূরে। শীতকালে প্ৰায় প্রতিদিন সূৰ্য্যান্তের কিছু পূর্বে সেখানে যাইতাম । এবং প্ৰকাণ্ড হরিদ্বর্ণ মাঠের আইলের উপর দিয়া যাইতে যাইতে দুই দিকের ধানক্ষেত হইতে ধানের শীষ ছিড়িতাম। তাহার পর