পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মধ্যে-মধ্যে তাঁহার বিমল সহবাসে কিয়াৎকাল যাপন করিবার জন্য সেখানেও যাইতাম । তিনি অতি পরিহাস্যরসিক আমোদপ্রিয় পরষ ছিলেন, আমিও তদ্রপ; সতরাং দজনের একত্র সমাগম হইলে উভয়ের ‘জিগলিপষিা’ প্রবত্তি প্রবল হইয়া উঠিত। হাসিতে হাসিতে লোকের নাড়িতে ব্যথা হইয়া যাইত। এবারেও হরিনাভিতে তাহা ঘটিল। একদিন রাত্রে সামাজিক উপাসনার পর আহারান্তে আমাদের দইজনের গলেপার কাটাকাটিতে রাত্রি ২টা বাজিয়া গেল। ব্ৰাহমুদের নাড়িতে ব্যথা হইল। সেই কারণেই হউক, কি হরিনাভির ম্যালেরিয়াবশতই হউক, আমি কলিকাতায় আসিয়াই জবরাক্কান্ত হইলাম। জবরের সঙ্গে রান্তকাশ দেখা দিল। একজন ডাক্তার বলিলেন, হাঁপকাশের সত্ৰপাত, কিন্তু ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার বলিলেন, ক্ষয়কাশের সত্রপাত। সেইরােপ চিকিৎসা আরম্ভ করিলেন। পিতামাতার ব্যবহার। এই পীড়ার সময় আমার পজিনীয় জনক-জননী কি করিয়াছিলেন, এবং আমার বিশ্ববাসী অনাগত ভূত্য খোদাই কি করিয়াছিল, তাহা লিপিবদ্ধ করিবার উপযন্ত। তৎপবে আট বৎসর কােল আমার পিতাঠাকুর মহাশয় আমার মািখদশন করেন নাই। তিনি যে প্রথম-প্ৰথম আমাকে গ্রামে প্রবেশ করিতে দিবেন না। বলিয়া গণডো ভাড়া করিতেন, ও শেষে সে প্রয়াস ত্যাগ করিয়াও আমি বাড়িতে কোনো ঘরে আছি। জানিলেই সে ঘরের দিকে যাইতেন না, পথে আমাকে দেখিলে সে পথ পরিত্যাগ করিতেন, এ সকল অগ্ৰেই বলিয়াছি। আমি পীড়াতে পড়িয়া যখন বঝিতে পারিলাম যে পীড়া কঠিন, আমার জীবন সংশয়, তখন তাঁহাকে সংবাদ দেওয়া উচিত মনে করিলাম। রোগশয্যায় পড়িয়া তাঁহাকে পত্র লিখিলাম। পীড়ার সংবাদ দিয়া লিখিলাম, “যদি উচিত বিবেচনা করেন, আসিয়া দেখা দিয়া আমাকে পদধলি দিয়া যাইবেন। তাহা না হইলে এই বিদায়, পরলোকে দেখা হইবে।” তৎপর্বে বাবা আমার চিঠিপত্র খলিতেন না, উপরে আমার হস্তাক্ষর দেখিলে ছিড়িয়া ফেলিতেন। এ পত্র যে কেন পড়িলেন, বলিতে পারি না। অনামান করি, লোকমখে অগ্ৰেই আমার পীড়ার जनश्वाम °ाछेशाछCब्लन् । ۔* যাহা হউক, একদিন প্রাতে আমার ভবনের দাবারে একখানি গাড়ি আসিয়া লাগিল। প্ৰসন্নময়ী জানালা হইতে দেখিয়া দৌড়িয়া আসিয়া আমাকে সংবাদ দিলেন, “বাবা ও মা আসিয়াছেন।” মা উপরে আসিলেন, কিন্তু বাবা। আর সে ভবনে প্রবেশ করিলেন না। মা আমার রোগশয্যার পাশে বা আসিয়া কাঁদিয়া বসিয়া পড়িলেন। “বাবা আসিলেন না কেন ?” জিজ্ঞাসা করাতে বলিলেন, তিনি কবিরাজ ডাকিতে গিয়াছেন। অন্যাসন্ধানে জানিলাম, বাবা আমার চিঠি পাইয়া, মায়ের গহনা বন্ধক দিয়া টাকা লাইয়া আমার চিকিৎসার জন্য আসিয়াছেন, বাড়িতে প্রবেশ করিবেন না, আমার জ্ঞাতি দাদা হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন মহাশয়ের বাসাতে থাকিয়া আমার চিকিৎসা করাইবেন। যথাসময়ে কবিরাজ আসিলেন। বাবা তাঁহাকে আমার ভবনে প্রবেশ করাইয়া দিয়া নিজে পথপাশেব দোকানে বসিয়া রহিলেন। কবিরাজ আমাকে দেখিয়া গেলে তাঁহার মখে সমাদয় শনিলেন। তাঁহার এই ব্যবহারে আমার চক্ষে কত জল পড়িল। তৎপর্বে এই আট বৎসর সংসারের আপদ-বিপদে জ্ঞাতসারে আমার এক পয়সাও সাহায্য লন নাই। পরন্তু যদি কখনো জানিতে পারিয়াছেন যে, মায়ের হাত দিয়া গোপনে কিছ অর্থ সাহায্য করিতে চাহিতেছি, তখন তুমলে কান্ড করিয়াছেন। তিনি আমাকে একেবারেই ত্যাজ্য পত্র S O f