পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমি। কি খোদাই, তুমি যে এলে ? খোদাই। আপনার বেমারি বেড়েছে শানে আমি আর থাকতে পারলাম না, কম ছেড়ে এসেছি। আমি । ভালো করনি। তোমাকে খেতে দেবে কে ? খোদাই। আপনি ভাববেন না, আমি বেতন চাই না। নারায়ণ আপনাকে বাঁচায়ে তুললে আপনি পরে বেতন হিসাব করে দেবেন। আর আপনি যদি না উঠেন, আমার বেতন থাক । শনিয়া আমার চক্ষে জল আসিল। আমি কোনোক্রমেই এই সঙ্কল্প হইতে তাহাকে ফিরাইতে পারিলাম না, সে থাকিয়া গেল। তৎপরে মা চলিয়া গেলে আমি আমার পর্ব বাসায় গেলাম। তখনো ছটিতে আছি। দিনের পর দিন যায়, দেখি প্ৰসন্নময়ী আমার নিকট সংসার খরচের টাকা চান না। কারণ জিজ্ঞাসা করিলে বলেন, “কে জানে খোদাই কোথা হতে চালাচ্ছে।. সে বলেছে, “মা, বাবকে এখন বিরক্ত কোরো না, টাকা না থাকলে আমাকে বল।” ” পরে অন্যসন্ধানে জানিলাম, খোদাই আপনার গলার সোনার দানা বাঁধা দিয়া টাকা আনিয়া প্রসাির্ষময়ীর হাতে দিতেছে। ইহার পর আমরা বায় পরিবতনের জন্য মঙেগরে যাই। খোদাই আমাদের সঙ্গে যায়। সেখানে গিয়া তাহার স্বাস্থ্য ভগন হয়। আমি তাহার সমাদয় ঋণ শোধ করিয়া, তাহাকে টাকা দিয়া তাহার দেশে পাঠাইলাম। সেখানে গিয়া তাহার মাতৃত্যু হইল। সে যে কয় মাস জীবিত ছিল, আমি তাহার সমস্ত মাসিক বেতন তাহাকে পাঠাইয়া দিতাম। হায়, তাহাতে তো তাহার প্রেমের ঋণ শোধ হইল না! শানিলাম, মরিবার সময় নিজ সন্তানকে বলিয়া গেল, “যদি কখনো কাজ করতে কালকেতায় যাস, আমার বাবার কাছে থাকিস।” প্রথম সন্তান বিয়োগ। আমি ছটি লইয়া বায় পরিবর্তনের জন্য মঙ্গেরে গেলাম। সেখানে গিয়াই এক বিপদ ঘটিল। মঙ্গেরে বাড়িগলির দোতলার বারান্ডার রেলিং বড় ছোট-ছোট। আমাদের পাহছিবার পরদিন বৈকালে আমি কয়েকজন সমাগত বন্ধর সহিত বসিয়া কথোপকথন করিতেছি, এমন সময় দাম করিয়া একটা শব্দ হইল। তাড়াতাড়ি উঠিয়া দেখি, আমার সবকনিষ্ঠা কন্যা এক বৎসর দশ মাসের বালিকা সরোজিনী সেই বাড়ির বারাডার রেলিঙে উঠিয়া তাহা টপকাইয়া নিচের উঠানের পাথরের মেঝের উপর পাড়িয়া গিয়াছে। সে আর কন্দিল না, নড়িল না, পাথরখানার মতো অচেতন হইয়া পড়িয়া রহিল। দৌড়িয়া নিচে গিয়া তাহাকে কুড়াইয়া আনা গেল, চেতনা করিবার জন্য অনেক চেন্টা করা গেল, আর চেতনা হইল না। রাত্ৰি চারি দন্ডের পর তাহার মাতু্য হইল। বন্ধ্যরা তাহার মািতদেহ লইয়া শামশানে দাহ করিতে গেলেন। কারণ তিনি উন্মত্তার ন্যায় ছটিয়া রাস্তায় যাইতে চাহিতে লাগিলেন। আমি শোক করিব কি, সেই সংগ্রামে সমস্ত রাত্রি অতিবাহিত হইল। আমার শোক একটি কবিতাতে প্ৰকাশ করিয়াছিলাম, তাহা “পল্পাঞ্জলি’তে প্রকাশিত হইয়াছে। সরোজিনীর মাতুর পর আমি কিছদিন মঙ্গেরে থাকিয়া, পরিবারদিগকে সেখানে রাখিয়া কলিকাতার কম স্থানে আসিলাম। এই সময় হইতে প্ৰসন্নময়ী ও বিরাজ SSO