পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২০৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কোষাধ্যক্ষ হইলেন। আমরা পােববঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ রেলওয়ের নিকট ফ্রী পাশ পাইয়া খাসিয়াঙ্গে গিয়া উপস্থিত হইলাম । সেখানে একটি বাড়ি ভাড়া করিয়া সাধন ভজনে। বসিলাম। একটি চাকর রাখিলাম; সে বাসন মাজিত, ঘর ঝাঁট দিত, ও অপরাপর কাজ করিত। নবদ্বীপবাব বাজার করিবার ভার লাইলেন, শশী বিছানা তোলা ও ডাকঘরে যাওয়ার ভার লাইলেন, বিদ্যারত্ন ভায়া খাওয়া ও লোকের সঙ্গে দেখা করার ভার লাইলেন; আমি রন্ধনের ভার লইলাম। আমরা প্ৰত্যুষে উঠিয়া সমবেত উপাসনা করিতাম, তৎপরে কিঞ্চিৎ প্রাতরাশ ও উপাসনা করিয়া যে যে-দিকে ইচ্ছা চলিয়া যাইতাম। এইরপে দাই ঘণ্টা কাল প্রত্যেকে একান্তে যাপন করিতাম। সেই সময়টা প্রত্যেকে নিজ-নিজ অভীষ্মট প্রণালীতে চিন্তা ধ্যান উপাসনাদি করিতাম। আমাকে রন্ধনের জন্য সকলের অগ্ৰে ফিরিতে হইত। আমি বাড়ির অনতিদারে পাহাড়ের উপরে নিঝরের পাশেব একখানি উপরে আসন নিদিলিট করিয়া লইয়াছিলাম। সেখানে প্রতিদিন বসিয়া চিন্তা ধ্যান ও উপাসনা করিতাম। এক মাস। এইরহপ সাধন করিয়া প্রভূত উপকার লাভ করিয়াছিলাম। এমন কি, এখনো দাজিলিং যাইবার সময় সেই পাথর খানির উপর যখনি দন্টি পড়ে, তখনি মনে উপাসনার ভাব উপস্থিত হয়। সেই সাধনের ফল চিরদিন রহিয়াছে। এখানে বাস কালে ব্ৰাহম বন্ধগণ অনেকে দাজিলিং যাইতে আসিতে আমাদের জন্য খাদ্যদ্রব্য অর্থাদি দিয়া যাইতেন। এইরপে প্রায় একমাস অতিবাহিত হওয়ার পর, আমরা একদিন উপাসনান্তে স্থির করিলাম যে নামিয়া যাইব। তখন কোষাধ্যক্ষ মহাশয়ের অর্থের ঝলি পরীক্ষা করিয়া দেখা গেল যে, সাব-সােব গন্তব্য পথানে ফিরিতে যে ব্যয় হইবে তাহার এগারোটি টাকার অপ্রতুলা; ভূত্যকে বেতন দিতে হইবে, এবং বাড়ি ভাড়া দিতে হইবে, ইত্যাদি। আমি প্রস্তাব করিলাম, ভিক্ষা করা হইবে না; ভূত্যকে আমার গায়ের মোটা কম্বল দেওয়া হইবে, ল্যাম্পটি বিক্রয় করা যাইবে, ইত্যাদি। তদনসারে ল্যাম্পটি বিক্রয় করা গেল। আমি ভূত্যের নিকট বেতনের প্রাপ্য অংশ সম্বরপ কমােবল দিবার প্রস্তাব উপস্থিত করিলাম, সে শনিয়া হাসিতে লাগিল। আমরা যে এত দরিদ্র যে গাত্রের কােবল দিয়া ভূত্যের বেতন দিতে হয়, এ কথা সে বিশ্ববাস করিতে পারিল না। অবশেষে কি করা যায় ? আমাদের ভিক্ষা বত্তির নিয়ম লঙ্ঘন করিয়া ভিক্ষা করাই স্থির হইল। আমি একজন ব্রাহাম বন্ধর নিকট ভিক্ষা করিবার জন্য চিঠি লিখিতে বসিলাম, এবং আমার দেখাদেখি বিদ্যারত্ন ভায়া দাজিলিঙ্গের ডেপটি ম্যাজিসেন্ট্রট বাবা পাবতীচরণ রায়কে পত্র লিখিতে বসিলেন। দই-চারি পংক্তি লিখিয়াই আমার মনটা কেমন করিতে লাগিল; নিয়মটা ভাঙিতে ইচ্ছা হইল না। সতরাং যে কয় পংক্তি লিখিয়াছিলাম, তাহা ছিাড়িয়া ফেলিলাম। আমি পত্ৰখানি ছিড়িয়া ফেলিলাম দেখিয়া বিদ্যারত্ন ভায়াও অধ্য লিখিত পত্ৰখানি ছিাড়িয়া ফেলিলেন। সেই দিনেই দাজিলিং হইতে আমেরিকান ইউনিটেরিয়ান মিশনারী সি. এইচ. এ. ড্যাল সাহেবের এক পত্ৰ পাইলাম। তিনি লিখিয়াছেন, “আমি পরশ নামিয়া যাইতেছি, তুমি কবে নামিবে ? তোমার সঙ্গে একটা বিশেষ কথা আছে, যদি সেই দিন যাও, একসঙ্গে যাইতে পারি এবং সে কথাটা বলি।” আমি উত্তরে লিখিলাম, “আমাদের হাতে শিলিগড়ি পর্যন্ত গাড়ি ভাড়া দিবার পয়সা নাই, আমরা বোধ হয়। হাঁটিয়া শিলিগড়ি পর্যন্ত যাইব ।” তৎপর দিন এক আশচয ঘটনা! ডাকযোগে কলিকাতা হইতে এক পত্র আসিল। ১৩ (৬২) RON