পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সতরাং সে সকল দেশের নরহিতৈষী পরিষ ও মহিলাগণের কায্যের কথা জানি না; কিন্তু ইংলন্ডে নরহিতৈষণার যে ব্যাপার দেখিলাম, তাহা অতীব বিস্ময়জনক। মানব বন্ধিতে যে জনহিতকর এত প্রকার কায উদ্ভাবিত হইতে পারে, ইহাই আশ্চৰ্য্য! তাহার কতগলির উল্লেখ করিব ? অসংখ্য বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। লন্ডনে ডাক্তার বাণান্ডোর অনাথাশ্রম বাটিকা ও ব্রিম্পটলে সাধ, ভক্ত জজ মালার মহাশয়ের অনাথাশ্রম বাটিকা যখন দেখিলাম, তখন বিস্মিত হইয়া ভাবিতে লাগিলাম, ঈশবরভক্তি নরহিতৈষণা বা কাষ দক্ষতা, কোন গণের অধিক প্রশংসা করিব! তৎপরে শ্রমজীবীদিগের ইনস্টিটিউট, “পী পলস প্যালেস', শ্রমজীবীদিগের রবিবাসরীয় বিদ্যালয়, “পাওর হাউস” বা দরিদুদিগের আশ্রয় বাটিকা প্রভৃতি যাদা দেখিতে লাগিলাম, তাহাতেই বিস্ময় বন্ধি হইতে লাগিল। বলিতে কি, ইংল্যান্ড বাস কালে আমি ঐ সকল দেখাকেই আমার একটি প্রধান কায মনে করিয়াছিলাম। শিশিরক্ষিণী সভা। ইংরাজ জাতির কিরােপ নরহিতৈষণা তাহার প্রমাণ সম্বরপ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা যাইতেছে। আমি যখন সেখানে, তখন তিন প্রকার কাজের বিষয় আমার শ্রতিগোচর হইল। প্রথম, মিস্টার বেনজামিন ওয়া নামে একজন পাদরী একদিন কোনো নগরের রাজপথ দিয়া যাইতে যাইতে দেখিলেন যে, একটি শিশ পথে দাঁড়াইয়া আছে, তাহার মাখে নানা আঘাতের দাগ, মািখ ফলিয়া রহিয়াছে। তিনি জিজ্ঞাসা করাতে সে বলিল, তাহার পিতা বা মাতা মাতাল হইয়া তাহাকে প্রহার করিয়াছে। তখন মিসটার ওয়ার মনে-মনে প্রশন উঠিল, তবে তো পিতামাতার হসন্ত হইতেও অসহায় বালক-বালিকাকে রক্ষা করা চাই! এই চিন্তা লইয়া তিনি ঘরে গেলেন, এই চিন্তা তাঁহার মনকে ঘিরিয়া লইতে লাগিল, এবং তিনি বন্ধবান্ধবের সহিত ঐ বিষয়ে আলাপ করিতে লাগিলেন। অবশেষে তাহার ফলস্বরাপ ‘শিশরক্ষিণী সভা’ নামে একটি সভা সস্থাপিত হইল, শাত-শত ব্যক্তি তাহার সভ্য শ্রেণীতে প্রবেশ করিলেন। দেখিতে-দেখিতে একটা প্ৰকাশন্ড ব্যাপার হইয়া উঠিল। তৎপরে এই কয়েক বৎসরে সেই সভার সভ্যগণ মহাকাব্য সমাধা করিয়াছেন, শিশ রক্ষার জন্য পালেমেণ্টের দ্বারা নািতন আইন বিধিবদ্ধ করিয়া লইয়াছেন। সে আইন অনসারে শিশদের প্রতি নিদািয়তার জন্য পিতামাতাকে দশডনীয় হইতে হয়। ইংলন্ডের ন্যায় মাতাল দেশে এইরূপ আইন নিতান্ত প্রয়োজনীয়। কমী মেয়েদের অবসর বিনোদন। আর একটি কায্যের সচিনাও এইরপ কারণে হইয়াছিল। একদিন এক ভদ্রমহিলা লন্ডনের রাজপথ দিয়া যাইতে যাইতে দেখিলেন, বৈকাল বেলা সন্ধ্যার পাবে রাজপথে হাজার হাজার প্রাপ্তবয়স্কা বালিকা, অর্থাৎ ১৬ হইতে ২৫ বৎসর পর্যন্ত বয়স্কা যাবতী সন্ত্রীলোক বেড়াইতেছে। এরপ দশ্য সেখানে নািতন দশ্য নহে, কিন্তু সেদিন ঐ দশ্য উক্ত মহিলার অন্তরে এক নতন ভাবের উদয় করিল। তিনি ভাবিতে লাগিলেন, এই সকল মেয়ে মফঃসল হইতে আসিয়াছে, কাজকম লইয়া এখানে বাস করে। কেহ দোকানে কাজ করে, কেহ পোস্ট আপিসে কাজ করে, কেহ হোটেলে কাজ করে। সন্ধ্যা হইলে ছটি পায়, রাস্তাতে বেড়ায় ; দশজনে ‘মেসন’ করিয়া থাকে, পিতামাতা নিকটে থাকে না। ইহাদিগকে দেখে কে ? এই চিন্তা করিতে করিতে তিনি বাড়িতে আসিলেন। সর্বীয় পতির সহিত এই * কথাতে প্রবত্ত হইলেন, এবং বন্ধ-বান্ধবের সহিত এই বিষয়ের আলোচনা করিতে no8 (Wb SR) RSA