পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্থানে বাস করিতেছিলেন। আমি তাঁহাকে দেখিবার জন্য সেখানে গমন করি, এবং দইদিন তাঁহার ভবনে থাকি। তখন তাঁহার বয়ঃক্কম অশীতি বৎসরের অধিক হইবে। সেই শীতপ্রধান দেশে হােত পা ঠিক রাখিতে পারেন না; তাঁহার স্ত্রী কাপড় পরাইয়া । দেন, হাত ধরিয়া আনেন, তবে নিচে আসেন। যে দইদিন সে ভবনে ছিলাম, সে । দইদিন দেখিলাম যে, প্রাতে নিচে আসিয়া তাঁহার প্রথম কম ভগবানের নাম করা। সে উপাসনাতে তাঁহার পত্নী, বাড়ির রাঁধনী, চাকরানী, প্রভৃতি সকলে উপস্থিত। থাকিতেন। তিনি প্রথমে কোনো ধমৰ্ম্মগ্রন্থ হইতে কিয়দংশ পাঠ করিতেন, তৎপরে তাঁহার নিজের প্রণীত প্রার্থনা পস্তক হইতে একটি প্রার্থনা পড়িতেন। আহার করিতে DDB BDS DD DBBDBBB DB DD DBDDDBBDB BB uuDD DDDBBBD বন্ধ সাধ, অগ্ৰে ঈশবরকে ধন্যবাদ করিয়া। তবে আহার করিতে বসিলেন। দ্বিতীয় দিনে আহার করিতে বসিয়া আমাকে বলিলেন, “তুমি যেখানে যেখানে যাইবে, একেশবরবাদী দিগকে বলিও, তাহারা যেন নাস্তিকের মতো পথিবীতে বাস না করে। সর্বীয়সত্বীয় গহ ও পরিবারে ঈশ্ববরের নাম ও উপাসনাকে যেন সম্প্রতিষ্ঠিত রাখে।” আমি তাঁহার পাঠাগারে গিয়া দেখি, তাঁহার প্রণীত যে সকল গ্রন্থের কথা জানিতাম না, সেই সকল গ্রন্থে পাঠাগার পর্ণ। তিনি যে এত ভাষা জানিতেন ও এত বিষয়ে গ্রন্থ লিখিয়াছেন, তাহা আমার ন্যায়। তাঁহার অনাগত ভান্তদিগেরও অবিদিত ছিল। দইদিন তিনি আমাকে সমদ্রতীরে লইয়া গিয়া অনেক উপদেশ দিলেন। রেভারেশন্ড চালােস ভয়সীর পরিবারে একদিন। চতুৰ্থ সমরণীয় ব্যক্তি, থিইস্টিক চাচের আচার্য রেভারোিপড চালােস ভয়সী। আমি লন্ডনে থাকিবার সময় মধ্যে-মধ্যে ইহার উপাসনা মন্দিরে যাইতাম। তিনি যেমন সময়ে অসময়ে খন্টীয় ধমের ও যীশর দোষ কীর্তন করিতেন, তাহা আমার ভালো লাগিতা না; কিন্তু যে ভাবে উদার আধ্যাত্মিক সাবভৌমিক ধমের সত্য সকল ব্যক্ত করিতেন, তাহাতে আমার মন মগধ হইত। তাঁহার সঙ্গে পরিচয় হইলে, তিনি তাঁহার বাড়িতে আহারের জন্য আমাকে নিমন্ত্ৰণ করিলেন। তখন ভয়সী গহিণী ও তাঁহার পত্র-কন্যাগণের সঙ্গে আমার আলাপ হইল। তাঁহারা একেবারে আমাকে নিজের লোকের মতো করিয়া লইলেন। তাহার পর একদিন ভয়সী সাহেবের অন্যুরোধে তাঁহার উপাসনা মন্দিরে উপদেশ দিলাম। সেই উপদেশে ব্রাহামসমাজ কি কি কাজে হাত দিয়াছে ও কি করিতেছে, তাহার বণনা করিয়াছিলাম। ব্রাহামগণ এদেশে কিরােপ সামাজিক নিগ্ৰহ সহ্য করিতেছেন, তাহারও কিঞ্চিৎ বিবরণ দিয়াছিলাম। যত দর সমরণ হয়, সেই বিবরণ উপস্থিত ব্যক্তিদিগের অনেকের ভালো লাগিয়াছিল। একটা কথা বিশেষভাবে মনে আছে। উপাসনা মণডপ হইতে নামিয়া পাশেবার ঘরে আসিয়া ভয়সী সাহেব ও ভয়সী। গহিণীর সহিত কথা কহিতেছি, তখন মিসটার ভয়সীর কনিষ্ঠা কন্যা, যাহার বয়স তখন ২৭ ৷৷ ২৮ বৎসর হইবে, আমাকে আর কথা কহিতে দেয় না; আমাকে হাত দিয়া ঠেলিয়া বার-বার বলিতে লাগিল, “মিসটার শাস্ত্রী, ব্রাহামসমাজ আমার সমাজ, ভারতবর্ষ আমার দেশ, আমি তোমার সঙ্গে যাব; আমাকে নেবে কি না, বল না ?” আমি ২। ১বার বলিলাম, “রোস, কথা কহিতে দাও।” সে দেরি তার সয় না, আবার ঠেলিয়া বলে, “আমাকে সঙ্গে নেবে কি না, বল না ?” তখন আমি ভয়সী গহিণীর মখের দিকে চাহিয়া হাসিয়া বলিলাম, “আপনার মেয়ে তো আমার সঙ্গে চলিল।” তিনি হাসিয়া বলিলেন, “যাওয়ার অর্থ কি, তা ও এখনও বোঝে না। তা মন্দ কি ? RRA