পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একখানি প্রাচীন য়িহদী ইতিবত্ত পড়িয়া যাহা জানিয়াছিলাম, তাহা বলিতে লাগিলাম। কথায় কথায় দেখিলাম, মেয়েটি সে বিষয়ে এত দর অভিজ্ঞ এবং এত কথা বলিতে লাগিল, যাহা আমি অগ্রে সবপোিনও ভাবি নাই। এই আলাপে মন্ন হইয়া আমরা তাহার বাড়ির দাবারে গিয়া পৌছিলাম। কোথা দিয়া সময় যাইতেছে, তাহা মনে নাই। তাহার বাড়ির দাবার হইতে দইজনে ফিরিয়া আবার আমার বাসার অভিমখে চলিলাম। অবশেষে আমাদের বাসার সন্নিকটে আসিয়া ঘড়ি খলিয়া দেখি, আহারের সময় সন্নিকট, তাহারও কাষান্তরে যাওয়া প্রয়োজন। তখন সে আমাকে পরিত্যাগ করিয়া গেল। মেয়েটি চলিয়া গেলে ভাবিতে লাগিলাম, যে মেয়ে একশোটা শবদ লিখিয়া এক পেনি করিয়া পায়, সে মেয়ে আমা অপেক্ষা জ্ঞানে এত অগ্রসর যে, তাহার সহিত কথা কহিয়া আমি আপনাকে উপকৃত বোধ করিতেছি; এ দেশে জ্ঞান চাচা কি প্রবল ! ইহাও মনে হইল, প্ৰজা সাধারণের মধ্যে জ্ঞানালোচনা ও জ্ঞানসােপহো প্ৰবল থাকা নর-নারীর সম্মিলনের মধ্যে পবিত্ৰতা রক্ষা হওয়ার একটি প্রধান উপায়। এই যে দই ঘণ্টা কাল দাইজনে কথাবাতাতে মগন ছিলাম-আমি যে পরষ এবং ও যে মেয়ে, তাহা মনেই ছিল না। কোথা দিয়া সময় গেল তাহা ऊर्गान्झांड३ •द्भिव्भ क्षा । বাঙালী যািবকের চিত্তবিক্ষেপ কাহিনী। ইংরাজ সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নারীগণের সর্বভাব চরিত্র সম্পবন্ধে অধিক কথা বলিবার প্রয়োজন নাই, একটি বিষয়ের উল্লেখ করিলেই তাহার কিঞ্চিৎ আভাস পাওয়া যাইবে। আমার সেখানে অবস্থান কালে একটি বাঙালী যাবকের মাখে। যে ঘটনার কথা শনিয়াছিলাম, তাহার উল্লেখ করিতেছি। ঐ যবকটি মফঃসলে কোনো সম্প্ৰথানে বাস করিতেন। সেখানে নিম্পন্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর এক যািবকদম্পতীর গহে বাসা লইয়াছিলেন। তাহদের বাড়ির বাহির দিকে একটি দোকান ছিল, তাহাতে কিছ আয় হইত; এবং তদিভন্ন তাহারা বাড়ির মধ্যে একটি ঘরে একটি ভাড়াটিয়া লইত, তাহার ঘরভাড়া ও খাই-খরচ হিসাবে কিছ পাইত। বাড়িতে চাকর-বাকর ছিল না, মেয়েটিই সব কাজ করিত। মেয়েটির বয়স তখন ২২ ৷৷ ২৩এর অধিক হইবে না। আমাদের বাঙালী যবকটির বয়স বোধ হয়। ২৬ ৷৷ ২৭ হইবে। মেয়েটির পতিরও ঐ বয়স। আমাদের বাঙালী যােবক বড় সংলোক, তাঁহাকে পাইয়া যােবকদক্ষপাতী আনন্দিত ছিল। কিন্তু এদিকে এক বিপদ উপস্থিত। মেয়েটি সরল ভাবে যখন যবকটির কাছে আসে, চা আনিয়া দেয়, ছোড়া কাপড় সেলাই করিয়া আনে, এটা ওটা করিতে বলে, নিজন গহে কাছে আসিয়া “কেমন আছ, তোমার মািখ কেন শকিনো” প্রভৃতি প্রশন যখন জিজ্ঞাসা করে, তখন আমাদের বাঙালী যবকটির চিত্ত বড় বিচলিত হয়। কিন্তু ছেলেটি ভালো বলিয়া সে মনে-মনে এই সংগ্রাম নিবারণ করে, মেয়েটিকে কিছই জানিতে দেয় না। এই অবস্থাতে সে অবশেষে স্থির করিল যে, সে-বাড়িতে আর তার থাকা উচিত নয়; কখন কি বলিয়া ফেলিবে, কখন কি করিয়া বসিবে, তার ঠিক কি ! একটা মহা ক্লেশকর ব্যাপার ঘটিবে। সে অন্যত্র বাসা লইবে, এইরপ স্থির করিয়া, একদিন সায়ংকালীন আহারের সময় কারণ নির্দেশ না করিয়া যােবকদম্পতীকে ঐ সঙ্কলািপ জানাইল। তাহারা উভয়েই মহা দঃখিত হইয়া তাহাকে থাকিবার জন্য ব্যগ্রতা সহকারে অনরোধ করিতে লাগিল। তখন আর সে অধিক কিছ বলিতে পারিল না; সে যে ঘোর প্রলোভন ও সংগ্রামের মধ্যে বাস করিতেছে, তাহা জানিতে দিল না। দশিচন্তাতে রাত্রে তাহার S& (UR) . 9 9ܓ