পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তাঁহার কিছু ঋণ ছিল। অবশেষে সেই ঋণ শোধ করিবার জন্য তাঁহাকে টাকা দিয়া, তাঁহাকে আসিতে বলিলাম। জগদীশবর আশচযা উপায়ে আশ্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে লাগিলেন । আমি একটি ছেলের হাতে ভিক্ষার ঝলি পাঠাইতাম। তাহাতে সবতঃপ্রবত্ত হইয়া লোকে যাহা দিত, তাহা দ্বারাই সমন্দিয়া ব্যয় চলিয়া যাইত। গািরদাস সব ত্যাগী হইয়া আসিলেন। তৎপরে শ্ৰীযক্ত কাশীচন্দ্র ঘোষাল নামে বিক্রমপরের একজন ব্ৰাহম তাঁহার জন্তার দোকান তুলিয়া দিয়া আসিলেন। ক্ৰমে-ক্ৰমে আরও অনেকে আসিলেন। ইহার মধ্যে অনেকে আবার চলিয়া গিয়াছেন। আশ্রম ভিন্ন-ভিন্ন বাড়িতে থাকিয়া অবশেষে সমাজ পাড়াতে সমাজের নিমিত প্রচারক ভবনে প্ৰতিস্ঠিত হইল, এবং অদ্যাবধি সেইখানেই আছে। “আশ্রমের ইতিবত্ত’ নামে একখানি হস্তলিখিত পােস্তক আছে, তাহাতে ইহার অনেক আশচযা ঘটনার বিবরণ পাওয়া যাইবে বলিয়া এখানে আর অধিক লিখিলাম না। কেবল কয়েকটি বিশেষ ঘটনার উল্লেখ করিতেছি। আশ্রম যখন সােথাপিত হইল, তখন আমার হাতে একটি পয়সা ছিল না। এমন কি, বসিয়া লিখিবার জন্য যে একখানি চেয়ার ও ডেস্ক কিনি, সে পয়সারও অভাব ছিল। অথচ আশ্রম স্থাপনের উপাসনাতে যে সকল বন্ধ আসিয়াছিলেন, তাঁহাদের কাহারও কাছেও কিছ চাহিলাম না। মনে এই ভাব ছিল, এ কাব্য যদি জগদীশবারের অভিপ্রেত হয়, সাহায্য আপনি আসিবে, স্বতঃপ্রবত্ত দানের দ্বারা চলিবে। আশচয্যের বিষয় এই, দইদিন যাইতে না যাইতে ইংলন্ড হইতে প্রফেসার ফ্রান্সিস নিউম্যানের প্রেরিত পনেরো টাকা আসিয়া উপস্থিত। তিনি লিখিয়াছেন, “তুমি ব্রাহামসমাজের যে কাজে ব্যয় করিতে চাও, করিও।” তাহা দিয়া একটি ডেস্ক, একখানি চেয়ার ও অত্যাবশ্যক যাহা কিছ প্রয়োজন ছিল, তাহা কেনা হইল। এই ভাবাপন্ন হইয়াই, যে বালকটির হাতে বাড়িতেবাড়িতে বাক্স পাঠাইয়াছিলাম, তাহাকে বলিয়া দিয়াছিলাম, “কাহারও নিকট বিশেষLDDB DBDS uDB D BBD BB DB DDDBDBSDDDDBSDLD BB DDDBS সম্ভবতঃপ্রবত্ত হইয়া যিনি যাহা দিবেন। লাইবে।” এইরুপ করিয়াই চারিদিক হইতে সাহায্য পাওয়া গিয়াছিল। আশ্রম সংক্রান্ত আর একটি ঘটনা চিরস্মরণীয়। ১৮৯২ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৯৩ সালের মাঘোৎসবে ১২ই মাঘ প্ৰাতঃকালে সাধনাশ্রমের উৎসব হইবে এবং আমাকে লইয়া সাতজন পরিচারক বিধি পাবক নিযক্ত হইবেন, এই সিনেথর ছিল। এই নিয়োগ কায নিবাহের জন্য আমরা মহাষি দেবেন্দ্রনাথকে নিমন্ত্ৰণ করি। তিনি দয়া করিয়া সম্পর্মত হন। আমি সংক্ষেপে উপাসনা কায সম্পািপষ করিয়া বেদী হইতে অবতরণ করিলে, কিয়ৎক্ষণ সঙ্গীত চলিতে থাকে। ইহার পর মহাষি আসিয়া তাঁহার জন্য রচিত নািতন বেদীতে আসন গ্রহণ করেন। একটি সঙ্গীতের পর আমি সাধনাশ্রম ও সাধকমন্ডলীর অনন্ঠানপত্র পাঠ করি। তৎপরে আমরা সাতজন একে-একে আমাদের ব্ৰতাপত্রে পাঠ করি এবং মহাষি দেব একে-একে আমাদের সাতজনের মাথায় হাত দিয়া তাঁহার আশীবাদ বাণী পাঠ করেন। তৎপরে তিনি চলিয়া গেলে উপাসনার শেষাংশ সম্পন্ন হয়। সেদিন আমার উপদেশের বিষয় ছিল, “জীবন বিনা সত্যের শক্তি হয় না।” সেদিন এইরহপ একটি ভাবের আবিভােব হইল যে, সমাগত বন্ধগণের নিকট দানের উপযন্ত যে কিছ ছিল, সকলে আশ্রমের জন্য দান করিতে লাগিলেন। এমন কি, অবশেষে চারিদিক হইতে আমার মস্তকের R O