পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৭৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গেল। অবশেষে বাবার পক্ষে অসহনীয় বোধ হইল। তিনি রাগিয়া গেলেন, এবং যেরপে হউক বালিকা-পত্নীকে কারাগার হইতে উদ্ধার করিয়া তাহার পিতৃগহে। আনিবেন স্থির করিলেন। এই স্থির করিয়া একবার কলেজের ছটির সময় বাড়িতে গেলেন। গিয়া মাকে ডুলি করিয়া নিজে সঙ্গে করিয়া মা’র পিত্ৰালয়ে আনিতে প্রস্তুত হইলেন। গ্রামে হলস্থল পড়িয়া গেল। জ্ঞাতিগণ ভাঙিয়া পড়িলেন, বড় পিসী ও পিস্যামহাশয় লড়জায় মিীয়মাণ হইলেন, কারণ একজন ১৫, ১৬ বৎসরের বালকের পক্ষে এরপ কাযে প্রবত্ত হওয়া বড় লজার কথা মনে হইতে লাগিল। কিন্তু বাবা কাহারও আপত্তির প্রতি কৰ্ণপাত করিলেন না। মা'র ডুলির সঙ্গে গ্রামে বাহির হইলেন, এবং জ্ঞাতিবগের বাড়ির সম্পমখ দিয়া যাইবার সময় চীৎকার করিতে লাগিলেন, “কে আছ, বাহির হও । এই দেখ, আমার সন্ত্রীকে আমি শবশরিবাড়ি লইয়া যাইতেছি।” আর একটি বিষয়ও এই তেজস্বিতা ও মনীষাত্বের দ্যোতক। অগ্ৰেই বলিয়াছি, বাবা কলেজে ঈশ্ববরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের প্রিয়পাত্র ছিলেন। মদনমোহন তাকালঙ্কারের সহিতও তাঁহার আত্মীয়তা ছিল। উক্ত উভয় সদাশয় পরিষের সঙ্গে তদনসারে তিনি ছটির সময় ঘরে আসিলেই আমার মাতাঠাকুরাণীর শিক্ষকতা কাযে। নিষক্ত হইতেন। মা ঘরের কােজ সারিয়া দশটা রাত্রে শয়ন করিতে আসিলে তাঁহাকে পড়াইতে বসিতেন। মাও উৎসাহ সহকারে পড়িতেন। কলেজ খলিলে বাবা মাকে পড়িবার জন্য বই দিয়া যাইতেন, মা সেইগলি মনোযোগ পর্বক বিনা সাহায্যে যত দর হয় পাঠ করিতেন ; কখনো কখনো পাড়ার ছেলেদিগকে ডাকিয়া সন্দেহ ভঞ্জন করিয়া লইতেন। মা’র পাঠ্যগ্রন্থের মধ্যে কৃত্তিবাসের রামায়ণ এক প্রধান গ্রন্থ ছিল। আমার জ্ঞানে, আমি তাঁহাকে প্রায় প্রতিদিন রামায়ণ পড়িতে দেখিতাম। নিজে পড়িতেন, এবং ছটির দিনে আমাকে দিয়া পড়াইয়া শনিতেন। কিন্তু যে জন্য মা’র লেখাপড়া শিক্ষার কথা বলিতেছি, তাহা এই যে, এজন্য বাবাকে নিযাতন সহ্য করিতে হইত। বড় পিসী গালাগালি দিতেন, পাড়ার মেয়েরা মাকে উঠিতে বসিতে ঠাট্টা করিত। জ্ঞাতিগণ বাবার সাহেব' নাম তুলিয়া দিলেন। ইহার আর একটা কারণও আছে। তিনি একবার কালো জনতা পায় দিয়া এবং একটা চীনে ছাতা মাথায় দিয়া গ্রামে গিয়াছিলেন। ব্রাহণ পন্ডিতের ছেলে চটি পায়ে না। দিয়া কালো জােতা পায়ে দিয়াছে এবং গোলপাতার ছাতা মাথায় না দিয়া চীনে ছাতা মাথায় দিয়াছে, ইহা গ্রামের লোকের, বিশেষত জ্ঞাতিবগের চক্ষে অসহনীয় বোধ হইয়াছিল। সে যাহা হউক, বাবা মাকে শিক্ষা দিবার বিষয়ে আত্মীয়-স্বজনের এবং জ্ঞাতিবগের আপত্তি শনিলেন না। সবাধীনভাবে ও দঢ়চিত্তে আপনার কাজ করিয়া যাইতে লাগিলেন। স্ত্রীশিক্ষা বিষয়ে তাঁহার এই দঢ়প্ৰতিজ্ঞতা ও এই তেজস্বিতা কিরাপে গ্রামের বালিকাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংশ্রবে। প্রকাশ পাইয়াছিল, তাহা পাবেই বলিয়াছি। ! এক্ষণে তাঁহার উগ্র উৎকট আত্মমযাদা জ্ঞানের বিষয়ে কিছু বলি। আমি তাঁহার বিরাগ সত্ত্বেও ব্রাহাত্মসমাজে প্রবেশ করিলে, তিনি কিরাপে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করিয়াছিলেন যে আমার উপাজিত অর্থের এক পয়সাও গ্রহণ করিবেন না। কিরূপে আমাকে অতি গোপনে তাঁহাকে সাহায্য করিতে হইত এবং কিরূপে আমার মধ্যম ভগিনীর বিবাহের সময় তাঁহাকে ল্যুকাইয়া মা’র হাত দিয়া কিছর অর্থ সাহায্য করাতে RANS