পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দায়িত্ব লইয়া সেই কাযে দেহ মন অপণ করিলেন। তাঁহার ন্যায়। একজন দরিদ্র ব্ৰাহমণ পশিডতের পক্ষে ইহা যে অতিশয় দঃসাহসিকতার কায, এ কথা একবারও তাঁহার মনে আসিল না। স্কুলটির সমগ্র ব্যয়ভার তাঁহার উপরেই পড়িয়া গেল। এই ভার তিনি মাতুর দিন পর্যন্ত বহন করিয়াছেন। মাসের প্রথমে সংস্কৃত কলেজের বেতন পাইলেই সেইদিন বাড়ি ফিরিবার সময় তিনি প্রথমে স্কুলে গিয়া স্কুলের আয়-ব্যয় দেখিয়া, আবশ্যক মতো নিজ বেতন হইতে অৰ্থ সাহায্য করিয়া শিক্ষকদিগের বেতন দিবার বন্দোবস্ত করিয়া। তবে বাড়ি যাইতেন। আমার মাতুলের উদারতা ও মহত্ত্বের কোনো কোনো বিবরণ অগ্ৰে দিয়াছি, তাহার পিনরাত্তি আর করিলাম না। সংক্ষেপে এই মাত্র বলিতে পারি যে, আমার পিতা-মাতার চরিত্রের পর আমার মাতুলের চরিত্র আমার চরিত্র গঠনের পক্ষে প্রধানরপে কায। করিয়াছে। তাঁহার জ্ঞাননিষ্ঠা, তাঁহার কত ব্যপরায়ণতা, তাঁহার স্বদেশানরোগ, তাঁহার অকপটচিত্ততা চিরদিন আমার মনে মাদ্রিত রহিয়াছে। আমার ‘রামতন লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ” নামক গ্রন্থে তাঁহার জীবনচরিত দিয়াছি। পণ্ডিত ঈশবরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। আমার মাতুলের পরেই যাঁহার সংশ্রবে। আসিয়া আমি বিশেষ রূপে উপকৃত হই, তিনি পশিডতবর। ঈশবরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। আমি ১৮৫৬ সালে নয়। বৎসর বয়সে কলিকাতায় আসি। আসিয়া সংস্কৃত কলেজে ভতি হই। তখন বিদ্যাসাগর মহাশয় ঐ কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। কেবল তাহা নহে, বন্ধতাসত্রে আমার মাতুলের সঙ্গে দেখা করিবার জন্য মধ্যে মধ্যে আমাদের বাসাতে আসিতেন। অগ্ৰেই বলিয়াছি, তিনি আমাকে দেখিলেই হাতের দাই অঙ্গলি চিমটার মতো করিয়া আমার ভুড়ির মাংস টানিয়া ধরিতেন। এই ভয়ে, তিনি আসিতেছেন জানিতে পারিলেই, আমি সেখান হইতে নিরদেশ হাইতাম। কিন্তু তিনি আমাকে বড় ভালোবাসিতেন। আসিয়াই আমাকে খাজিতেন, আমার কথা জিজ্ঞাসা করিতেন। আমার বাবাকেও অত্যন্ত ভালোবাসিতেন এবং মাতুলের সঙ্গে সংস্কৃত ব্যাকরণ লইয়া বিচার উপস্থিত হইলে, বাবাকে ডাকিয়া মীমাংসা করিয়া লাইতেন। বাবার ব্যাকরণে ব্যৎপত্তি বিষয়ে তাঁহার প্রগাঢ় আসথা ছিল। কলেজে। আমরা তাঁহাকে ভয়ের চক্ষে দেখিতাম এবং দরে-দরে থাকিতাম। ছেলেরা দন্টামি করিলে তিনি ধরিয়া নিজের ঘরে লইয়া যাইতেন, কোণে দাঁড় করাইয়া রাখিতেন এবং বইয়ের পাতাধিকাটা সলাইসের সবারা তাহদের পেটে মারিতেন। ভুড়িতে মারিয়াছিলেন ও আমাকে কোণে দাঁড় করাইয়া রাখিয়াছিলেন। আমরা কলেজের ছোট-বড় সকল ছেলে বিদ্যাসাগর মহাশয়কে একজন ক্ষণজন্ম পরিষ বলিয়া মনে করিতাম। আমার বেশ মনে আছে, তিনি যখন ডিরেক্টরের সহিত ঝগড়া করিয়া কলেজ ছাড়িলেন, তখন আমরা গবৰ্ণমেণ্টের উপর মহা চটিয়া গিয়াছিলাম। তিনি যেন আমাদের প্রাণ সঙ্গে করিয়া লইয়া গেলেন। তাহার পর যত বয়স বাড়িতে লাগিল, ততই তাঁহার সঙ্গে আরও গাঢ় যোগ হইতে লাগিল। আমি ব্রাহামসমাজে যোগ দিলে বাবার যে ক্লেশ হইয়াছিল। তাহাতে তাঁহারও মনে বড় ক্লেশ হইয়াছিল। বাবা তাঁহাকে বলিয়াছিলেন, “মানষে যেমন ছেলে যমকে দেয়, তেমনি আমি ছেলে কেশবকে দিয়াছি।” তাহাতে বিদ্যাসাগর মহাশয় কাঁদিয়াছিলেন। কিন্তু পথে ঘাটে আমার সঙ্গে দেখা হইলেই প্রথম প্রশন এই করিতেন, “হাঁ St.