পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৮২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মধ্যে চক্ষের সমক্ষে আসিল। মনে হইল, সঙ্কলারশিপ যদি না পাই, তাহা হইলে যাহাদের জন্য এতটা সংগ্ৰাম চলিয়াছে, তাহদের আর সাহায্য করিতে পারিব না। যোগেন ও মহালক্ষী সাহায্যের অভাবে কাজট পাইবেন ভাবিয়া চক্ষে জল আসিল । “ঈশ্ববর, রািখ, এই বিপদে রােখ,” বলিয়া মনে-মনে প্রার্থনা করিতে লাগিলাম। এক মাহতের মধ্যে কত ব্যপথ নির্ধারিত হইয়া গেল। সর্বাধিকারী মহাশয়ের মাখের দিকে চাহিয়া ধীর ভাবে জিজ্ঞাসা করিলাম, “আপনি কি আমার প্রতি একটা অনগ্ৰহ করিতে পারেন ? তাহা হইলে একবার জীবন মরণ পণ করিয়া দেখি।” তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি অনগ্ৰহ ?” আমি বলিলাম, “আমি মনে করিতেছি, কলিকাতা হইতে পলাইয়া ভবানীপরে থাকিব, বিশেষ প্রয়োজন ভিন্ন কলেজে আসিব না, একাগ্র চিত্তে পাঠে মন দিব এবং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হইব। কলেজে না আসার জন্য যদি আমার সাকলারশিপ না কাটেন, তাহা হইলেই এইরূপ করিতে পারি।” তিনি বলিলেন, “তুমি কলেজে আসবে না, অথচ সকলারশিপ কাটা হবে না, এটা কলেজের নিয়ম বিরাদ্ধ। ডিরেক্টরকে জিজ্ঞাসা না করে। এরপ করতে পারি না। কি হয় তোমাকে দদিন পরে বলব।” তৎপরে তিনি সমাদয় বিবরণ খালিয়া লিখিয়া ডিরেক্টরের নিকট হইতে অনািমতি আনিলেন এবং আমাকে ছটি দিলেন। আমি যোগেন ও মহালক্ষমীর নিকট বিদায় লইয়া আমার পরাতন আশ্রয়দাতা ভবানীপরের মহেশচন্দ্র চৌধরিী মহাশয়ের ভবনে গিয়া উপস্থিত হইলাম। তাঁহাদিগের নিকট আড়াই মাসের জন্য একটি ঘর চাহিলাম, যে ঘরে আমি একাকী থাকিব। তাঁহারা দয়া করিয়া তাহা করিয়া দিলেন। আমি সেই ঘর আশ্রয় করিয়া পাঠে একেবারে মগন হইলাম। প্রাতে একবার সন্নানাহারের সময় বাহিরে যাইতাম ও রাত্রে আহারের সময় আধা ঘণ্টার জন্য যাইতাম। নতুবা দিনরাত্রি ঐ ঘরে যাপন করিতাম। এই আড়াই মাসের মধ্যে শয্যাতে যাই নাই। সন্ধ্যার সময় চাকরেরা আলো জবালিয়া দিয়া যাইত, সেই আলো সমস্ত রাত্ৰি থাকিত। বড় ঘাম পাইলে দই-চারি ঘণ্টা পািকস্তক মাথায় দিয়া সেই ঘরেই ঘামাইতাম। যত দর সমরণ হয়, পাঠের ঘণ্টা এই রােপ ভাগ করিয়া লইয়াছিলাম-অঞ্জক ছয় ঘণ্টা (দাইঘণ্টা গ্রন্থ পড়া ও চারঘণ্টা অণ্ডক কষা), ইতিহাস ছয়ঘণ্টা, ইংরাজী তিনঘণ্টা, সংস্কৃত একঘণ্টা, লজিক দাইঘণ্টাসব শািন্ধ প্রায় আঠারো ঘণ্টা। এইরপ পড়িতে-পাঁড়িতে শরীর ও মন সময়-সময় বড় অবসরষ হইয়া পড়িত। তখন পড়া ফেলিয়া দিয়া বাহিরে যাইতে ইচ্ছা করিত। সেই সময়ে যোগেন ও মহালক্ষীর মখ মনে করিয়া মনে দর্যন্ত প্ৰতিজ্ঞা আসিত। ভাবিতাম, যাহাদের প্রধান উৎসাহদাতা হইয়া এই সংগ্রামের মধ্যে ফেলিয়াছি, তাহদের সাহায্য করিতে না পারিলে কিরাপে নিশিচন্ত থাকিব ? প্ৰাণ থাক। আর যাক, একবার মরণ-বাঁচন চেন্টা করিয়া দেখিতে হইবে। অমনি মনে প্রার্থনার উদয় হইত, “হে ঈশবর, এই সংগ্রামে আমার সহায় হও ।” তখন দিনের মধ্যে বহবার প্রাথনা করিতাম। লোকে যেমন শ্রমের মধ্যে বার-বার চা খাইয়া সবল হয়, আমি তেমনি বার-বার প্রাথনা করিয়া সবল হাইতাম । এইরপে শ্ৰম করিতে করিতে যখন আড়াই মাস পরে পরীক্ষার সময় আসিল, তখন দেখিলাম একঘরে আড়াই মাস বন্ধ থাকিয়া ও নিচের ঘরে শইয়া-শ্যইয়া কোমরে বাত ধরিবার উপক্ৰম হইয়াছে। পরীক্ষা দিতে যাইবার সময় একটি বালকের কাঁধে হাত দিয়া পরীক্ষার হলে গেলাম ও পরীক্ষা দিয়া আসিলাম। তখন ডিসেম্বরের শেষে পরীক্ষা হইত। *峙 bታ CO