পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১০০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত ? [ ৩য় পূরঃ পাইয়া আসিয়া প্ৰহার করিতেন, এবং আমার হা-কাল নাম রাখিয়াছিলেন, তাহা অগ্ৰেই বলিয়াছি। এই মাতুলের বাসায় থাকিবার সময় এক দিন আমি বাড়ীর ভিতরের উপরের ঘরে তন্মনস্ক চিত্তে পাঠে মগ্ন আছি, এমন সময়ে বড় মামা শয়ন করিবার জন্য উপরে আসিতেছেন। আমি তন্মনস্ক চিত্তে পড়িতে বসিলেই কোমরের কাপড় খুলিয়া যাইত। সেইরূপ কাপড় খুলিয়া পড়িয়াছে, আমি পাঠে মগ্ন আছি। বড় মামার জুতার ঠক্‌ ঠক্‌ শব্দ শুনিতেছি, কিন্তু চেতনা হইতেছে না, কাপড় সামলাইয়া পরিতেছি না। অবশেষে বড় মামা যখন সেই ঘরের দ্বারে আসিয়া উপস্থিত হইলেন, তখন আমি সজাগ হইয়া কোমরের কাপড় সামলাইতে প্ৰবৃত্ত হইলাম। বড় মামা বলিলেন, “তুই কি ঘুমুচ্ছিলি ? বসে ঘুমুচ্ছিলি কেন ? শুতো ত পারতিস ?” আমি বলিলাম, “না, ঘুমুই নি।" তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “অমন থাড়ি-মাড়ি দিয়ে উঠুলি কেন ?” আমি বলিলাম, “আমি মনে করলাম ছুচো আসছে।” তিনি হাসিয়া বলিলেন, “ডুচে কি জুতো-পায়ে সিড়ী দিয়ে আসে ?” এই লইয়া বাড়ীর লোকের মধ্যে হাসাহাসি পড়িয়া গেল। অবশেযে বড় মামা আমার পাঠে মনোযোগ ও চিত্তের একাগ্রতার জন্য সন্তোষ প্ৰকাশ করিলেন । মাতুলের ছাপাখানা ও বাসা উঠিয়া যাওয়াতে নানা স্থানে বাস ও কষ্ট ভোগ।-ইহার কিছু দিন পরেই মাতলা রেলওয়ে খুলিল। বড় মামা ডেলি প্যাসেঞ্জর হইয়া বাড়া হইতে কলেজে গীতায়াত করিতে লাগিলেন। সোমপ্ৰকাশ যন্ত্র কলিকাতা হইতে চাঙ্গড়িপোতা গ্রামে তাহার বাসভবনে উঠিয়া গেল। আমাদের বাসা আবার ভাঙ্গিল। আমি দুদিন ইহাদের সঙ্গে, দুদিন উহাদের সঙ্গে, এইরূপ করিয়া ভাসিয়া বেড়াইতে লাগিলাম। শেষে আমার পিতা আসিয়া আমাকে সুকিয়া ষ্ট্রীটে বাদুড়বাগানে এক আত্মীয়ের বাসাতে রাখিয়া গেলেন। তিনি আমার মাতার পিসতুতো ভাই। তিনি কম্পোজিটারি কাজ করিতেন, এবং একখানি