পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ৪র্থ পরিং, ঘনঘটােচ্ছন্ন হইয়া জোরে বায়ু বহিতে আরম্ভ হয় ও বৃষ্টি নামে। সেই বায়ু ও বৃষ্টিতে আমরা কোনও প্রকারে শালতিতে বসিয়া রাত্রি কাটাইলাম। শয়নের সুখ আর হইল না। পরদিন প্রত্যুষে যখন মেঘের অন্তরালে উষার আলোক দেখা দিল, তখন দেখিলাম আমাদের শালতি মগরাহাট নামক স্থানের উত্তরে জালাসি নামক দ্বীপগ্রামের কিঞ্চিৎ উত্তরে, বিশাল জলা ও ধান্যক্ষেত্রের মধ্যে, ঝড় ও তরঙ্গের আঘাতে আন্দোলিত হইতেছে। বায়ুর বেগ এত অধিক যে সম্মুখ দিকে এক পা অগ্রসর হওয়া কঠিন। কোনও প্রকারে শালতির চালকদ্বয় জালাসি গ্রামের বাজারের ধারে গিয়া শালতি লাগাইল। আমরা লাফাইয়া তীরে উঠিলাম এবং একটি দোকানে গিয়া আশ্রয় লইলাম। দেখিলাম, আমাদের ন্যায় আরও কয়েক জন শালতির যাত্রী নানা স্থান হইতে আসিয়া সেখানে আশ্ৰয় লইয়াছে। তখনও কাহারও মনে হয় নাই যে ঝড় অবিলম্বে ভীষণ সাইক্লোনের আকার ধারণ করবে। সকলে পরামর্শ হইতে লাগিল যে, সকলে মিলিয়া খিচুড়ী রাধিয়া খাওয়া যাক। যাত্রীদের মধ্যে দুই জন ব্ৰাহ্মণ এই কাৰ্য্য করিতে স্বীকৃত হইলেন। বলিলেন, দুই জনের জন্য রাধাও যা, দশ জনের জন্য রাধাও তা। আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে সেই দুৰ্য্যোগের দিনে খিচুড়ী খাইতে পাইব বলিয়া আনন্দিত হইতে লাগিলাম। কিন্তু দেবতা আর এক প্রকার বন্দোবস্ত করিলেন । ভীষণ সাইক্লোন। এক জন পথিকের অদম্য হাসি ও গান।—খিচুড়ীর পরামর্শ শেষ হইতে না হইতে, দোকানদারের সহিত চাউল দাউলের মূল্য নিৰ্দ্ধারণ হইতে না হইতে, হু হু করিয়া সাইক্লোনের বায়ু ডাকিয়া আসিল। আমাদের চক্ষের সমক্ষে কয়েকখানি চালা ঘর পড়িয়া গেল। অবশেষে যে দোকানে আমরা বসিয়া ছিলাম, সে ঘর কঁাপিতে লাগিল। আমরা বিপদ গণনা করিয়া কোমর বঁাধিতে লাগিলাম । তখনও দেখি যাত্রীদের মধ্যে এক ব্যক্তি তুড়ি দিয়া মন-আনন্দে