পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১২৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


፰bነ” শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ৪র্থ পরিঃ ব্যাপারখানা এই। তখন আমার এমনি দারিদ্র্য ও দুরবস্থা যে, আমাকে চটি জুতাই সৰ্ব্বদা পরিতে হইত ; বুট জুতা পরা ভাগ্যে ঘটিত না । সুতরাং সেদিন চাট জুতা পায়ে দিয়াই কলেজে যাইবার পথে সাহেবের আপীসে গিয়াছিলাম। তাহ দেখিয়াই সাহেব চটিয়াছিলেন। সাহেব। তুমি জুতা পরিয়া' এ ঘরে প্রবেশ করিয়া আমাকে অপমান করিয়াছ। তুমি জুতা খুলিয়া এস। আমি। না। সাহেব, আমি জুতা খুলিব না। আমি কিরূপে আপনার অপমান করিলাম, তাহা বুঝিতে পারিতেছি না। আপনার পায়ে জুতা রহিয়াছে, আপনার কেরানী বাবুর পায়ে জুতা দেখিতেছি। আপনার যদি খোলেন। তবে আমি খুলিতে পারি। সাহেব । ও যে বুট জুতা। আমি। বুট জুতা পায়ে দিয়ে এলে আপনার মান থাকিত, আর চটি জুতা পায়ে দিয়া আসাতে আপনার মান গেল, এ নূতন কথা ; ইহা আমি কিরূপে বুঝিব ? সাহেব। হা, আমার আপীসের এ নিয়ম আছে, তাহা তুমি কি জান না ? আমি । না। সাহেব, আমার জন্মে এমন নিয়ম শুনি নাই । সাহেব। তুমি জুতা খুলিবে কি না, বল। আমি। না সাহেব, খুলব না। সাহেব। তবে তোমার চিঠি নেব না। আমি। এই কাগজ আপনার ডেক্সের উপর রইল। ও আপনাদেরই কাগজ ; নেন নেবেন, না নেন না নেবেন । আমার কাজ আমি ক’রে গেলাম । এই বলিয়া ডেক্সের উপর কাগজ রাখিয়া আমি যাইতে উদ্যত। সাহেব বলিলেন, “শোন শোন, দাড়াও ” আমি দাড়াইলাম।