পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১১৬ শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ৪র্থ পরিঃ তাহাদিগকে পরিত্যাগ করিবার সঙ্কল্প জানাইলাম, তখন মেয়েটি কয় দিন কঁাদিয়া কঁাদিয়া চোখ ফুলাইয়া ফেলিল। অবশেষে যখন আমি জিনিসপত্র লইয়া বিদায় হই, তখন বলিল, “দাদা, একটু দাড়াও, এক বার ভাল ক’রে প্ৰণাম করি।” এই বলিয়া - তাহার অঞ্চলটি গলায় দিয়া গলবস্ত্ৰ হইল এবং আমার চারি দিকে প্ৰদক্ষিণ করিতে লাগিল । এক বার প্রদক্ষিণ করিয়া আসে ও আমার চরণে প্ৰণত হয় এবং ডাক ছাড়িয়া কঁদে ; डांभि8 डiद्ध न कैं ि। সেই ষে কঁাদিয়া বাল্য বিবাহকে ঘৃণা করিতে করিতে সে বাড়ী হইতে বিদায় লইলাম, সেই ঘুণ অদ্যাপি আমার মনে জাগ্রত রহিয়াছে। কেহ দশ এগার বৎসরের মেয়ের বিবাহ দিতেছে দেখিলে মনে বড় ক্লেশ৷ হয়। কি আশ্চৰ্য্য ! বাল্য বিবাহের অনিষ্ট ফল পূর্বে কত দেখিয়াছিলাম ; শাশুড়ীর হাতে বৌয়ের প্রাণ গেল, কত বার শুনিয়াছিলাম ; বালিকা পত্নী বিরাজমোহিনীকে হাত পা বাধিয়া সপত্নীর উপরে ফেলিয়া দিল, ইহাও দেখিয়াছিলাম ; কিন্তু ঐ মেয়েটির চক্ষের জলে শিশু বালিকাদিগকে হাত পা বাধিয়া দান করার উপরে আমাকে যেরূপ জাতক্ৰোধ করিল, এরূপ অগ্রে করে নাই। কোন ঘটনাতে মানুষের মনে কোন ভাব আসে, ভাবিলে আশ্চৰ্য্যান্বিত হইতে হয়। হায় হায় । ঘটনাচক্ৰে মেয়েটি কোথায় গেল, আমি কোথায় গিয়া পড়িলাম ! তৎপরে বহু বৎসর পরে এক দিন বিধবা বেশে মলিন বস্ত্ৰে দীনহীনার ন্যায় শিশুকোলে তাহাকে ভবানীপুরের গলিতে কোনও আত্মীয়ের বাড়ীতে যাইতে দেখিয়াছিলাম। সে আমাকে দেখিয়াই “দাদা’ বলিয়া ডাকিয়া উঠিল ; কিন্তু আমার চিনিতে বিলম্ব হইল। দাড়াইয়া তাহার দুঃখের কাহিনী শুনিলাম ও চক্ষের জল ফেলিলাম। সেই দেখা শেষ দেখা !