পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮৭০-৭২ ] নগেন্দ্র বাবুর প্রতি প্রচারক মহাশয়দিগের অগ্ৰীতি ১৯৩ আমার বেশ স্মরণ আছে যে, আমরা বেলঘরিয়া বা কঁকুড়গাছির উদ্যান ভবনস্থ আশ্রম হইতে আসিয়া কলিকাতার বাটীতে র্তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিলে, তিনি বিদ্রুপ করিয়া বালতেন, “কি হে, তোমাদের স্বৰ্গরাজ্য কত দূর এল ?” যদিও পরে তিনি আসিয়া আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়াছিলেন। কিন্তু এ কারণে তিনি সে সময়ে কিছু দিনের জন্য প্রচারকগণের নিন্দ ও তিরস্কারের পাত্ৰ হইয়াছিলেন। নগেন্দ্ৰ বাবুর প্রতি প্রচারক মহাশয়দিগের অপ্রীতি - নগেন্দ্ৰ বাবুর প্রতি প্রচারকগণের অপ্রীতি জন্মিবার আর এক প্রকার কারণ ছিল। নগেন্দ্ৰ বাবুর তখন এক প্রকার শিরঃপীড়া ছিল, যাহাতে তিনি সময় সময় লোকের সঙ্গ সহ করিতে পারিতেন না, একাকী একাকী থাকিতে ভালবাসিতেন, অথবা নিজের অন্তরঙ্গ কতিপয় বন্ধুর সঙ্গে থাকিতেন। আশ্রমের উপাসনায় তিনি উপস্থিত থাকিতেন বটে, কিন্তু অপরাপর অনেক সময়ে প্রচারকগণের সহিত বসিতেন না। তঁাহারা যখন দশ জনে কেশব বাবুর নিকট বসিয়া কথাবাৰ্ত্ত কহিতেছেন, তখন হয়ত তিনি তঁহার প্রিয় বন্ধু খ্যাতনামা রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ভবনে শয়ন করিয়া তাহার মুখে জ্ঞানের কথা শুনিতেছেন। নগেন্দ্ৰ বাবুর আর একটা স্নায়বীয় দুৰ্ব্বলতা এই ছিল যে, যে-কেহ বিরুদ্ধ ভাবে তাহার সমালোচনা করে, তিনি তাহার দিক দিয়া যাইতেন না। আমি দেখিতে লাগিলাম যে, নগেন্দ্র বাবুর সহিত প্রচারক মহাশয়দিগের বিচ্ছেদ দিন দিন বাড়িতে লাগিল। আমি অনেক সময় তঁহাকে বলিতাম, যাহাঁদের সঙ্গে কাজ করিতে আসিয়াছেন, তঁহাদের সঙ্গ হইতে এরূপ দূরে থাকা উচিত নয়। কিন্তু বলিলে কি হয়, মানুষের প্রকৃতিতে যাহা আছে, তাহা কি হঠাৎ চলিয়া যায় ? তিনি যে একাকী বেড়াইতেন, অনেক সময় গভীর আত্মচিন্তাতে যাপন করিতেন। ; এক দিনের কথা মনে আছে। এক দিন আমরা ֆՎ)