পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Re8 শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ৯ম পরিঃ সহিত কথা কহিয়া প্রীতি ও চমৎকৃত হইয়া আসিয়াছেন। শুনিয়া দক্ষিণেশ্বরে যাইবার ইচ্ছাটা প্ৰবল হইয়া উঠিল। আমার সেই বন্ধুটিকে সঙ্গে করিয়া এক দিন গোলাম । প্রথম দর্শনের দিন হইতেই আমার প্রতি রামকৃষ্ণের বিশেষ ভালবাসার লক্ষণ দৃষ্ট হইল। আমিও তঁহাকে দেখিয়া বিশেষ চমৎকৃত হইলাম। আর কোনও মানুষ ধৰ্ম্ম সাধনের জন্য এত ক্লেশ স্বীকার করিয়াছেন কি না, জানি না। রামকৃষ্ণ আমাকে বলিলেন যে, তিনি কালীর মন্দিরে পূজারি ছিলেন। সেখানে অনেক সাধু সন্ন্যাসী আসিতেন। ধৰ্ম্ম সাধনাৰ্থ তাহারা যিনি যাহা বলিতেন, সমুদয় তিনি করিয়া দেখিয়াছেন। এমন কি, এইরূপ সাধন করিতে করিতে তিনি ক্ষেপিয়া গিয়াছিলেন, কিছু দিন উন্মাদগ্ৰস্ত ছিলেন। তদ্ভিন্ন তঁাহার একটা পীড়ার সঞ্চার হইয়াছিল যে, তঁহার তাবাবেশ হইলেই তিনি সংজ্ঞাহীন হইয়া যাইতেন । এই সংজ্ঞাহীন অবস্থাতে আমি তঁহাকে অনেক বার দেখিয়াছি ; এমন কি, অনেক দিন পরে আমাকে দেখিয়া আনন্দে অধীর হইয়া ছুটিয়া আসিয়া আমার আলিঙ্গনের মধ্যেই তিনি সংজ্ঞাহীন হইয়া গিয়াছেন। সে যাক। রামকৃষ্ণের সঙ্গে মিশিয়া এই একটা ভাব মনে আসিত যে, ধৰ্ম্ম এক ; রূপ ভিন্ন ভিন্ন মাত্ৰ। ধৰ্ম্মের এই উদারতা ও বিশ্বজনীনতা রামকৃষ্ণ কথায় কথায় ব্যক্তি করিতেন । ইহার একটি নিদর্শন উজ্জলরাপে স্মরণ আছে। এক বার আমি দক্ষিণেশ্বরে যাইবার সময় আমার ভবানীপুরস্ক খ্ৰীষ্টীয় পাদরী বন্ধুটিকে সঙ্গে লইয়া গেলাম ; তিনি আমার মুখে রামকৃষ্ণের কথা শুনিয়া তঁহাকে দেখিতে গেলেন। আমি গিয়া যেই বলিলাম, “মশাই, এই আমার একটি খ্ৰীষ্টান বন্ধু আপনাকে দেখতে এসেছেন", অমনি রামকৃষ্ণ প্ৰণত হইয়া মাটিতে মাথা দিয়া বলিলেন, “খীশু খ্ৰীষ্টর চরণে আমার শত শত প্ৰণাম৷ ” আমার খ্ৰীষ্টীয় বন্ধটি