পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


 રvર; শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ১৩শ পরিঃ যাত্রা করিবার পূৰ্ব্বে তাঁহার সহিত দুই দিন যাপন করিবার জন্য ব্যগ্র ছিলাম । পথেয়ের অভাব ।-ঈশ্বরের প্রতি আমার কিরূপ নিৰ্ভরের অভাব ছিল, এবং তিনি কিরূপে আমার অভাব পূরণ করিয়াছিলেন, তাহার সাক্ষ্য দিবার জন্য এই প্রচার যাত্রার বিশেষ বিবরণ দিতে প্ৰবৃত্ত হইলাম। আগ্ৰা যাইব মনে করিয়া যাত্রার দিন সমাজ আপীসে গিয়া টাকা চাহিলাম। আপীসের কৰ্ম্মচারী একেবারে গাছ হইতে পড়িয়া গেলেন ; আমি যে যাইব, আমার যে টাকার প্রয়োজন, সে চিন্তা কাহারও মনে ছিল না! আমি ধৰ্ম্ম প্রচারার্থ সমুদয় ভারতবর্ষ প্ৰদক্ষিণ করিব বলিয়া নিৰ্দ্ধারণ করা হইয়াছে, আমি কবে যাত্ৰা করিব তাকারও সংবাদ আগ্ৰে দিয়াছি, অথচ আমার গাড়ি ভাড়ার টাকা সংগ্ৰহ করিয়া রাখা হয় নাই, দেখিয়া আশ্চৰ্য্যান্বিত হইয়া গেলাম । সমাজের কৰ্ম্মচারী ভায়াকে বলিলাম, “বান্ম হাত্ড়ে দেখ, কিছু টাকা পাও কি না ; আমি আজ রাত্রে যাত্রা করব ব’লে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক বস্তুকে লিখেছি, আর দেরি করতে পারব না।” তিনি খুজিয়া পাতিয়া আট টাকা কয়েক আনা বাহির করিলেন। আমি রেলওয়ে টাইম টেবিল পরীক্ষা করিয়া দেখি যে, তাহাতে ডুমরাওন পৰ্য্যন্ত যাওয়া যায়। কৰ্ম্মচারী বার বার দুই দিন অপেক্ষা করিতে বলিলেন ; কিন্তু কি জানি কেন আমার মন সেজন্য প্ৰস্তুত হইল না। আমি অনেক বার দেখিয়াছি, প্রচার মাত্রার জন্য এক বার প্রার্থনাপূর্ণ অন্তরে দিন স্থির করিলে তাহা ভাঙ্গা আমার পক্ষে সহজ হয় না, মহা বিঘ্ন ঘটিলেও মাত্ৰা করিয়া থাকি। এ যাত্ৰাও আর বিলম্ব করিতে পারিলাম না । বন্ধুদের অনুরোধ, পরিবার পরিজনের অনুরোধ, কিছুতেই আমাকে নিবৃত্ত করিতে পারিল না । আমি সেই দিনই রাত্রে যাত্ৰা করিলাম। মনে করিলাম, আমার বন্ধু প্ৰকাশচন্দ্র রায় বঁকিপুরে আছেন, তঁহার ভবনে দুই এক দিন যাপন করিয়া, তঁাহার নিকট হইতে পাথেয় হিসাবে