পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩৯৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮৮২-৮৮ ] কাশীতে পিতাঠাকুর মহাশয়ের গুরুতর পীড়া NDGY আবার পদব্রজে জল ভাঙ্গিয় অগ্রসর হইলাম। সন্ধ্যাকালে ষ্টীমার ঘাটের ষ্টেশনে উপস্থিত। সেখানকার বাবুরা আশ্চৰ্য্যান্বিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি আশ্চৰ্য্য । এই জলপ্লাবনে আপনারা এলেন কিরূপে ?” আমি হাসিয়া বলিলাম, ‘হস্তী দর্শন, গাড়ি কর্ষণ, নৌকা স্পৰ্শন, ও শেষে সস্তরণ ” ইহার অর্থ যখন ব্যাখ্যা করিলাম, তখন একটা হাসাহাসি পড়িয়া গেল। তৎপর দিন আমরা উভয়ে গৃহাভিমুখে প্ৰতিনিবৃত্ত হইলাম । কাশীতে পিতাঠাকুর মহাশয়ের গুরুতর পীড়া।—১৮৮৮ সালের একটি বিশেষ স্মরণীয় ঘটনা, কাশীতে আমার পিতাঠাকুর মহাশয়ের গুরুতর পীড়া । আমি উপবীত পরিত্যাগ করার দিন হইতে পিতাঠাকুর মহাশয় আমাকে এক প্রকার পরিত্যাগ করিয়াছিলেন । তদবধি এই দীর্ঘ কাল আমার মুখ দেখেন নাই ; আমার জীবন সংশয় কালেও দেখেন নাই |* প্ৰথম প্ৰথম আমার উপাজিত সিকি পয়সা লইতে চাহিতেন না । আমি আমার পিসতুতো বড় ভাইয়ের হাত দিয়া শীত কালে কম্বল প্রভৃতি দিতাম। তিনি কৌশলে তাহা বাবার হাতে দিয়া দাম লইতেন, এবং সেই মূল্য গোপনে আমার মায়ের তাতে দিতেন। আমি যখন ভবানীপুরে সাউথ সুবৰ্ব্বন স্কুলে কৰ্ম্ম করি, তখন আমার মধ্যম ভগিনীর বিবাহ হয়। সে সময়ে আমি বিবাহ ব্যয়ের সাহায্যাৰ্থ গোপনে মায়ের হাতে কিছু টাকা দিয়াছিলাম। পরে শুনিলাম যে, বাবা তাহা জানিতে পারিয়া এতই ক্রুদ্ধ ভাইয়াছিলেন যে ঘরের চালে আগুন দিয়াছিলেন, পাড়ার লোকে আসিয়া নিবাইয়াছিল। তৎপর এই ক্রুদ্ধ ভাব ক্ৰমে চলিয়া গিয়াছিল। তখন আমি মায়ের হাতে প্ৰত্যেক মাসে দশ টাকা করিয়া দিতেছি জানিয়া ক্রুদ্ধ হইতেন না ; কিন্তু সে অর্থ তিনি স্পর্শ করিতেন না, তাহ মায়েরই থাকিত ।

  • ২৩৪ পৃষ্ঠা দেখা ।