পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৪৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মুক্তি ফৌজ', OgحO সভা সমিতির সংবাদ পাইলেই উপস্থিত থাকিবার চেষ্টা করিতাম। একবার “আলোগ্ৰজাণ্ড প্যালেন’ ( Alexandra, Palace ) নামক কাচ মন্দিরে তঁহার এক বিরাট সভা করিলেন। তখন সভ্যগণের, বিশেষতঃ জেনারেল বুথের পুত্ৰ কন্যাগণের, যে উৎসাহ দেখিয়াছিলাম, তাহার বর্ণনা হয় না । আমি উক্ত প্রাসাদে পদার্পণ করিবামাত্র মেয়ের পর মেয়ে আসিয়া আমাকে আক্রমণ করিতে লাগিল। “আপনি কি ভালভেশনিষ্ট ? আপনি কি খ্ৰীষ্টান ?” যেই বলি “না,” আর কোথায় যায় । অমনি চীৎকার, তর্ক বিতর্ক উপস্থিত হয়। একটি মেয়ের হাত ছাড়াইলে আর একটির হাতে গড়ি। মুক্তি ফৌজের কাৰ্য্যে স্ত্রীলোকদিগেরই বিশেষ উৎসাত দেখিলাম। শুনিলাম, জেনারেল বুথের পুত্রবধূ, ব্রামওয়েল বুথের পত্নী, প্রতি দিন সন্ধ্যার পর লগুণনের রাস্তায় রাস্তায় ঘোরেন, এবং বারাঙ্গনাদিগের সহিত তর্ক বিতর্ক করিয়! তাহাদিগকে বিপথ হইতে নিবৃত্ত করিবার চেষ্টা করেন । এক দিন আমি হঁহাদের প্রধান কন্মস্থান দেখখার জন্য ইচ্ছুক হইয়া জেনারেল বুথের বাস ভবনে গিয়া উপস্থিত হইলাম। তখন মিসেস বুথ .৭'ধ হয় অসুস্থ ছিলেন। জেনারেল বুথ আসিতে পারিলেন না। তাহার পুত্র ব্রামওয়েল বুথ আমাকে লইয়৷ তাতাদের সাধন গৃহ দেখাইতে লাগিলেন। আমি যেদিকেই চাই, সেই দিকেই দেখি, প্রাচীরের গায়ে লেখা আছে, “ষীশু তোমাদিগকে ডাকিতেছেন,” “খীশুর চরণে মতি রাখ,” “ষীশুর চরণে প্রার্থনা কর, তিনি তোমাদিগকে বল দিবেন,” ইত্যাদি, ইত্যাদি। সমুদয় প্রাচীর সীশুর গুণগানে পরিপূর্ণ; ঈশ্বরের নাম কোথাও নাই। দেখিয়া আমি কিছু বিষন্ন হইয়া গেলাম। আমার বিষঃ মুখ দেখিয়া ব্রামওয়েল বুথ জিজ্ঞাসা করিলেন, “আপনাকে বিষঃ দেখিতেছি কেন ?” আমি বলিলাম, “কেবল মীশু খীণ্ড দেখিতেছি, ঈশ্বরের নাম কোথাও নাই, সেই জন্য আমার দুঃখ হইতেছে ; আপনার