পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৪৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8.8 শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত । [ ১৯শ পরিঃ ধরিয়া বলিল, “তুমি বসে, আমি বলিতেছি।” এই হাত ধরিবার ভাবে ও মুখের ভাবেই মেয়েটিও আসল কথা বুঝিতে পারিল। এত দিন তাহার কাছে যাহা প্রচ্ছন্ন ছিল, তাহা প্ৰকাশ হইয়া পড়িল। সে নিজের হাত ছাড়াইয়া লইয়া, বিস্ময়াবিষ্ট হইয়া বলিল, “এ কি, মিষ্টার অমুক ! তুমি না। বিবাহিত লোক ? তোমার না দেশে স্ত্রী আছে ? ভারতবর্ষের বিবাহিত মানুষেরা কি এরূপ ব্যবহার করতে পারে ?” তার পর আমাদের সেই যুবকটির মুখে যাহা শুনিয়াছি, তাহা এই।-- মেয়েটির এই কথাতে আমার যেন মনে হইল যে আমার বুকে একখানা শাণিত ছোরা বসাইয়া দিল ! আমার মাথা ভো ভো করিয়া ঘুরিতে লাগিল ; আমি তার হাত ছাড়িয়া দিয়া মাথা হেঁট করিয়া রহিলাম। মেয়েটি কিয়ৎক্ষণ নিৰ্বাক দাড়াইয়া থাকিয়া চা’র পেয়ালাটা আমার টেবিলের উপর রাখিয়া চলিয়া গেল। আমি আর চা কি খাইব, চক্ষু মুদিয়া পড়িয়া ভাবিতে লাগিলাম। অনেক ক্ষণ পরে উঠিয়া তাহার পতিকে এক পত্ৰ লিখিলাম, তাহার সংক্ষিপ্ত মৰ্ম্ম এই । “আমি যে তোমাদের বাড়ী ছাড়িয়া যাইতেছিলাম, তাহার কারণ এই যে, তোমার স্ত্রীকে দেখিয়া প্ৰলুব্ধ হইতেছিলাম, যদিও সে বেচারি কিছু জানিত না। আজ আমি তাকে নির্জন ঘরে পাইয়া মনের আবেগ সংবরণ করিতে না পারিয়া অপমান করিয়াছি। কিরূপ অপমান করিয়াছি, তাহা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেই জানিতে পরিবে। এখন তুমি আমার নিকট কি প্ৰতিশোধ চাও, জানাইবে। যদি তুমি পদাঘাত করিয়া আমাকে তাড়াও, তাহাতে দুঃখিত হইব না ; যদি অর্থদণ্ড কর, কত অর্থ দিতে হইবে তাহা জানাইবে ; আর আমার নিকট যাহা প্ৰাপ্য হইয়াছে, তাহার একটি বিল দিবে। কল্য প্ৰাতেই আমি তোমাদের ভবন পরিত্যাগ করিব । তোমার স্ত্রীকে আমায় মাপ করিতে বলিবে। আর আমি আজ সন্ধ্যার সময় তোমাদের সহিত আহার করিব না ; আমার খাদ্যদ্রব্য আমার