পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৪৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


sw । শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত ' । ২০শ পরিঃ অধৰ্ম্ম হেয় ও ধৰ্ম্ম শ্ৰেয়, ইহা তাহদের অস্থি মজ্জা মাংস ਰਿ যেন বসিয়া আছে। আমি ব্ৰাডল’র দলের নাস্তিকদের সভাতেও উপস্থিত থাকিয়া দেখিয়াছি ; তঁহাদের কথার ভাবভঙ্গী ও মত প্ৰকাশের ঐকান্তিকতা দেখিয়া মনে হয় যে, তঁহাদের মতে তঁহাদের পথাবলম্বী না হইলে ইংলণ্ডের রক্ষা নাই এবং সেই পথাবলম্বী হইতেই হইবে। এই সব দেখিতাম, আর মনে মনে এই কথা জাগিত যে ইংরাজ জাতি সত্যানুরাগী ও ধৰ্ম্মানুরাগী জাতি। ইংরাজ জাতির ধৰ্ম্মপ্রবণতা বিষয়ে ষ্টেড সাহেবের সহিত কথোপকথন ।--আমি ইংলণ্ড পরিত্যাগ করিবার প্রাক্কালে এক দিন ষ্টেড সাহেব আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি ইংলণ্ড হইতে কি লইয়া যাইতেছ?” আমি। কি জিনিসপত্ৰ লইয়া যাইতেছি। তাই জিজ্ঞাসা করিতেছ ? ষ্টেড। না, তা কেন ? কি দেখিয়া, কি শিখিয়া গেলে ? আমি । দেখিয়া যাইতেছি যে তোমরা ধৰ্ম্মপ্রবণ বিশ্বাসী জাতি। তোমাদের নাস্তিকেরাও আস্তিক, তারাও বিশ্বাস করে যে ব্ৰহ্মাণ্ড ধৰ্ম্ম নিয়ম দ্বারা শাসিত, এখানে সত্যের জয় হবেই হবে। ষ্টেড। তুমি ঠিক বলিয়াছ ; আমরা ধৰ্ম্মপ্রবণ জাতি। ফলতঃ এই ধৰ্ম্মপ্রবণতা ইংরাজ জাতির চরিত্রের মূলে মহা শক্তি রূপে বিরাজ করিতেছে । মধ্যবিত্ত ভদ্র ইংরাজের গৃহ।—ইংরাজ জাতির উন্নতির ও মহত্ত্বের আর একটি মূল কারণ লক্ষ্য করিলাম। তাহা ইংরাজের গাৰ্হস্থ্য নীতি। মধ্যবিত্ত ভদ্র ইংরাজের গৃহ একটি দেখিবার জিনিস। দশ দিন তাহার মধ্যে বাস করিলে মনে এক অভূতপূৰ্ব্ব শান্তি আনন্দ ও পবিত্ৰতা অনুভব করা যায়। ইংরাজের গৃহের সৌন্দৰ্য্যের অনেকগুলি কারণ আছে। যে যে কারণ আমার মনে লাগিয়াছে তাহারই উল্লেখ করিতেছি।