পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৪৭৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮৮৮] * রামমোহন বায়ের প্রতিমূৰ্ত্তি ও পাগড়ী 8R 9 নগরে যাই। তৎপুর্বে আমি ও আমার বন্ধু দুৰ্গামোহন দাস উদ্যোগী হইয় Arno's Vale নামক সমাদি ক্ষেত্রে দ্বারকানাথ ঠাকুর বিনিৰ্ম্মিত রাজার সমাধি মন্দিরের মেরামতের বন্দোবস্ত করিয়াছিলাম। কিরূপ মেরামত হইল, তাহ দেখিবারও ইচ্ছা ছিল। ঐ দিন আমি সমস্ত দুপুর বেলা রাজার সমাধি মন্দিরে যাপন করি, এবং সন্ধ্যার সময় এক প্ৰকাশ্য হলে রাজার বিষয়ে বক্তৃতা করি । রাজার স্মৃতি যে এখনও ব্রিষ্টলবাসীর মনে আছে তাহা জানিতাম না । আমি দুপুর বেলা সমাধি মন্দিরে বসিয়া আছি, দেখিলাম। সেই সময়েয় মধ্যে কয়েক ব্যক্তি আসিয়া সমাধি মন্দিরের সমক্ষে ভক্তিভাবে দাড়াইয়া সমাধিতে লিখিত বাক্যগুলি পাঠ করিতে লাগিলেন । তৎপরে সন্ধ্যার সময় আমার বক্তৃতা শেষ হইলে দেখি যে, একটি বৃদ্ধ স্ত্রীলোককে লোকে ধরিয়া সভা মধ্য হইতে আমার দিকে আনিতেছে। আমি তঁহাকে দেখিয়া সসম্রামে তাহার দিকে অগ্রসর হইলাম , তিনি হস্ত প্রসারিত করিয়া আমার হস্ত ধরিয়া বলিতে লাগিলেন “এই হাতে রামমোহন মায়ের হাত ধরিয়াছিলাম। এস, আজ তোমার হাত ধরি।” বলিয়া মহোৎসাহে আমার হাত ধরিলেন। তাহার পর তঁহার মুখে, কোথায় * কিরূপে রামমোহন রায়কে দেখিয়াছিলেন, তাহা শুনিলাম । রাজারামমোহন রায়ের মুন্নিৰ্ম্মিত মূৰ্ত্তি ও শালের পাগড়ী। -পরে আর একটি ঘটনা ঘটিল, তাহাও চিরস্মরণীয়। মৃত্যু কালে রাজা রামমোহন রায়কে যে ডাক্তার চিকিৎসা করিয়াছিলেন, তাহার কন্যা তখনও জীবিত ছিলেন। তিনি তঁাহার যৌবন কালে নিজ পিতার সঙ্গে রামমোহন রায়কে অনেক বার দেখিয়াছেন, রাজার সঙ্গে মিশিয়াছেন, ও তঁহার আতিথ্য করিয়াছেন। রাজা ও তঁহার পিতা গত হইলে, তিনি নিজ পিতার নিকটে প্রাপ্ত মুন্নিৰ্ম্মিত রাজার মস্তক ও র্তাহার মাথার শালের পাগড়ী প্ৰভৃতি স্মৃতিচিহ্নগুলি সযত্নে রক্ষা করিয়া