পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৫৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিষ্ট্র] জননী $枋 ரி নারিকেল গাছে বসিয়া সৰ্ব্বদাই নিজেদের বাসা বাধিবার জন্য পাতা ছিড়িত। বাবা কাহার নিকট এই ভুল সংবাদ শুনিলেন যে, কালীনাথ বাবু শকুনিগুলিকে ভয় দেখাইবার জন্য বা মারিবার জন্য বন্দুক আনিয়াছেন। ইহা শুনিয়া বাবা চটিয়া গেলেন, এবং বলিলেন, “এরা আবার ব্ৰাহ্মা ! শকুনি তোমার গাছের পাতা নেবে না, আমার গাছের পাতা নেবে। না, তবে কি ওদের নিজের গাছ আছে বাসা বাধূবে ?” ইহার কিছু দিন পরে আমি বাড়ীতে গেলে, বাবা আমাকে ঐ রূপ কথা বলিয়াছিলেন । এই পিতার গৃহে জন্মিয়া হঁহারই দৃষ্টান্তের প্রভাবের ভিতরে আমি বদ্ধিত হইয়াছি। আমি আত্মজীবন পরীক্ষা করিয়া পরিষ্কার রূপে দেখিতে পাই যে, এই তেজস্বিত, এই সত্যানুরাগ, এই দৃঢ়চিত্ততা, এই সহৃদয়ত। শৈশব হইতে না দেখিলে আমি নীতির মূল্য এরূপ হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিতাম না। কিন্তু অপর দিকে ইহাও অনুভব করি যে, পিতার তেজস্বিতা, মনুষ্যত্ব, আত্মমৰ্য্যাদা জ্ঞান, ও দৃঢ়চিত্ততা আমি পূর্ণ মাত্রাতে পাই নাই। এগুলি আরও অধিক মাত্ৰাতে আমাতে থাকিলে ভাল হইত। ( ২ )-জননী গোলোকমণি দেবী আমি শৈশব হইতে যেমন পিতাতে মনুষ্যত্ব ও দৃঢ়চিত্ততার আদর্শ দেখিয়া আসিয়াছি, তেমনি জননীতে আধ্যাত্মিকতা ও ধৰ্ম্মনিষ্ঠার আদর্শ দেখিয়াছি। আমার মাতামহ ধাৰ্ম্মিক গৃহস্থের আদর্শ ছিলেন ; আমার মাতুল দেশে কীৰ্ত্তব্যপরায়ণ, দৃঢ়চেতা ও স্বদেশপ্রেমিক মানুষ বলিয়া প্ৰসিদ্ধ ছিলেন। আমার পিতা সত্যবাদী, দৃঢ়চেতা ও পরোপকারী পুরুষ ছিলেন। সুতরাং আমার জননী ধৰ্ম্মপরায়ণতা ও সুনীতির প্রভাবের মধ্যে জন্ম গ্ৰহণ করিয়া সেই প্রভাবের মধ্যেই বদ্ধিত হইয়াছিলেন। তিনি নিজে তেজস্বিনী ও মনস্বিনী নারী ছিলেন। তঁহাতে দারিদ্র্য ছিল, কিন্তু ক্ষুদ্রতা ছিল না ; কোমলতা ছিল, কিন্তু ভীরুতা ছিল না ; সাধুভক্তি পূর্ণ vS))