পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৭৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ৩য় পরিঃ উদ্দেশ্যে আমাকে বলিলেন, “ছোকুরা, তুমি আমার দিকে পিছন ক’রে দাড়াও ত ?” আমি তাহার দিকে পশ্চাৎ ফিরিয়া দাড়াইলাম। তখন এক থোলো চাবি মাটিতে ফেলিয়া দিয়া বলিলেন, “কিছু শুনিলে কি ?” আমি বলিলাম, “চাবি ফেলে দিয়েছেন।” তখন তিনি হাসিয়া বাবাকে বলিলেন, “এ ছেলে ত কালা নয়।” বাবার সে কথা মনঃপূত হইল না । তিনি আমাকে বাড়ীতে আনিয়া অন্য কোনও ডাক্তারের পরামর্শে আমার কানে পিচকারী দিয়া, নাপিত ডাকিয়া কান পরিষ্কার করাইয়া, আমাকে জ্বালাতন করিয়া তুলিতে লাগিলেন। তখন মাসে মাসে নাপিত ডাকিয়া আমার কান খোটান হইত। নাপিতেরা তখন কুঠাওয়ালা বাবুদের ন্যায় বেনিয়ান পরিয়া পাগড়ী মাথায় দিয়া পথে পথে ঘুরিত। এক জন নাপিত এলেন, যেন কেরাণী বাবু এলেন। এই শ্রেণীর নাপিতের হস্তে ঐ অন্যমনস্কতার জন্য আমার অনেক নিগ্ৰহ झश्लेश्वाgछ । পিতার সঙ্গে জেলিয়াপাড়ায় বাস —হরেকৃষ্ণ বাবাজীর বাড়ীর বাসা অল্প দিনের মধ্যেই ভাঙ্গিয়া গেল। মাতুল মহাশয় উঠিয়া সিদ্ধেশ্বর চন্দ্রের লেনে এক বাড়ীতে গেলেন, এবং বাবা আমাকে লইয়া বহুবাজার জেলিয়াপাড়া নামক গলিতে বাসা করিলেন। ইহাও পুরুষের বাসা। বাসার লোকের কৰ্ম্মস্থল হইতে আসিয়া, বসিয়া তামাক খাইতেন ও গল্প করিতেন ; ধীরে সুস্থে রাধিতে যাইতেন ; আমি যে একটি ছোট বালক আছি, তার যে শীঘ্র শীঘ্ৰ আহার করা চাই, ইহা কাহারও মনে থাকিত না । তঁহাদের রাধিতে রাত্ৰি প্ৰায় ৯টা ৯ টি হইয়া যাইত। আমি ততক্ষণ জাগিয়া থাকিতে পারিতাম না ; কেতাব হাতে করিয়া ঘুমাইয়া পড়িতাম। আহারের সময় সকলে আমাকে টানাটানি করিত ; কোনও রূপে তুলিতে পারিত না। অবশেষে । বাবা প্রহার করিতেন; তখন নিদ্ৰা ভঙ্গ হইত ; কুঁদিতে কঁাদিতে