পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


分o শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ৩য় পরিঃ লইয়া পাড়ার বালকদিগের সঙ্গে সুখেই ছিলাম, আমাকে ধরিয়া লইয়া গেল বিবাহ দিতে । আমার ভাবনা হইল, রবাকে দেখে কে ? মার উপরে বিশ্বাস হইল না, কারণ মা তখন কুকুর ভালবাসিতেন না। কাজেই পাড়ার বালকদিগের প্রতি তার ভার দিয়া আসিয়াছিলাম। তাহারাই তাহাকে কয়েক দিন খাওয়াইয়াছিল ও দেখিয়াছিল। তাই আসিয়া সংবাদ দিল, “রবা ভাল আছে।” ক্রমে পালকী বাড়ীতে উপস্থিত হইল। পাড়ার মেয়েরা বীে দেখিতে আসিল। মা হুলু দিয়া, ধানদুৰ্ব্বা ফুল চন্দন ঠাকুরের চরণামৃত প্রভৃতি দিয়া বীে ঘরে তুলিলেন। আমি পালকী হইতে নামিয়াই তাড়াতাড়ি রবাকে দেখিতে ছুটিলাম। বড় পিসী “ওরে খা, ওরে খা” কারিয়া পশ্চাতে ছুটিলেন। কে বা মিষ্ট খায়, কে বা বীে লইয়া মেয়েদের মধ্যে বসে ! তখন রবা প্ৰসন্নময়ী অপেক্ষা বহুগুণে আমার প্রিয়। এখন এই সব স্মরণ হইয়া হাসি পায়। পিতার হাতে দারুণ প্ৰহারি।--বিবাহ উৎসব শেষ হইতে না হইতে একটি ঘটনা ঘটিল, যাহার স্মৃতি অদ্যপি জাগরূক রহিয়াছে। আমার বিবাহের কয়েক দিন পরেই আমার জ্ঞাতিসম্পর্কে এক জেঠার এক কন্যার বিবাহ উপস্থিত হইল। তখনও প্ৰসন্নময়ী আমাদের বাড়ীতে আছেন, বাপের বাড়ী ফিরিয়া যান নাই ; এবং তঁাহার পিত্ৰালয় হইতে যাহারা সঙ্গে আসিয়াছিলেন, তাহদেরও কেহ কেহ তখনও আছেন। আমার ঐ জ্যাঠতুতো বোনের বিবাহ উপস্থিত হইলে, এক দিন আমাদের পাড়ার ছেলেরা বরযাত্রদিগের সহিত কৌতুক করিবার জন্য পঞ্চবর্ণের গুড়া দিয়া আসন প্ৰস্তুত করিতে প্ৰবৃত্ত হইল । * আমিও তাহদের মধ্যে ছিলাম। সেখানে আমোদ প্ৰমোদ করিতে করিতে আমার বড় পিসীর মেজ ছেলে রামযাদব চক্ৰবৰ্ত্তীর সহিত আমার- হঠাৎ বিবাদ বাধিয়া গেল। দুই জনে জড়ােজড়ি ঠেলা ঠেলি ও ঘুষায়ুষি করিতে আরম্ভ