পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৯৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮৫৬-৬১ ] তন্মানস্কতা ԳS আমি বলিলাম, আচ্ছা দাও, আমি চিবচ্ছি।” এই বলিয়া তার হাত হুইতে কঁাচখানা লইয়া চিবাইতে প্ৰবৃত্ত হইলাম। যেমন দুই পাটী দন্তের মধ্যে র্কাচখানা রাখিয়া ভাঙ্গিতে যাইব, অমনি ডান দিকের নীচের ঠোট কাটিয়া দুখানা হইয়া গেল। এই অবস্থায় মাতুলের বাসাতে দৌড়িলাম। বড় মামা দেখিয়া ভয়ে আকুল হইলেন। কারণ জিজ্ঞাসা করাতে বলিলাম যে, একখানা চাকু ছুরি বাহাদুরি করিয়া দাঁত দিয়া তুলিতে গিয়াছিলাম। ছুরিখানা কিয়দুর উঠিয়া সবেগে ঠোঁটের উপর বসিয়া গেল। মামা তাহাই বিশ্বাস করিলেন, এবং ডাক্তার ডাকিয়া আমার ঠোঁট সেলাই করাইয়া দিলেন। আমি তঁহার নিকট এই একটি মিথ্যা কথা কহিয়াছিলাম। এখনও ইহা স্মরণ হইয়া লজ্জা হইতেছে, কারণ আমার সত্যবাদিতার প্রতি র্তাহার প্রগাঢ় বিশ্বাস ছিল। আমি আর র্তাহার নিকট কখনও কোনও মিথ্যা কথা বলিয়াছি বলিয়া স্মরণ হয় না। বলিতে কি, আমাকে তিনি কিরূপ বিশ্বাস করিতেন তাহ যখন ভাবি, আমার মন আশ্চৰ্য্যান্বিত হয়। পাছে তিনি ক্লেশ পান, এই ভয়ে সর্বদা কুসঙ্গ হইতে দূরে থাকিতাম। তিনি দৃঢ়চেতা কৰ্ত্তব্যপরায়ণ মানুষ ছিলেন, তামাক পৰ্য্যন্ত খাইতেন না ; ধীর গম্ভীর ভাবে সকল কাজ করিতেন ; দিন রাত্ৰি পাঠে মগ্ন থাকিতেন। তঁহাকে না দেখিলে, তঁহার চক্ষের সমক্ষে বদ্ধিত না হইলে, আমার মনে যত সাধু ভাব জাগিয়াছিল তাহা জাগিত না । তঁহার নিকট এই মিথ্যা কথা বলিয়া বহুদিন কষ্ট ভোগ করিয়াছি। ܡܫ তন্মনস্কতা -মাতুলের কলিকাতার বাসায় থাকিবার কালের আর একটি হাস্যজনক ঘটনা আছে। পূর্বেই বলিয়াছি, বালককালে আমার অতিশয়। তন্মনস্কতা ছিল। কিরূপে এক বার গাছের পাখী দেখিতে দেখিতে হাতীর পায়ের তলায় পড়িতে পড়িতে বাচিয়া গিয়াছিলাম, কিরূপে আমি তন্মনস্ক চিত্তে পড়িতে বসিলে বাবা আমাকে ডাকিয়া ডাকিয়া উত্তর না।