পাতা:আত্মজীবনী ও স্মৃতি-তর্পন - জলধর সেন.pdf/২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Sir আত্মজীবনী ও স্মৃতি-তৰ্পণ এই সকল দেখেশুনে তঁদের সকলেরই বিশ্বাস জন্মাল যে, হেকিম সাহেব প্ৰকৃতপক্ষে একজন নামজাদা সুচিকিৎসক । ঠাকুরদা। তখন তঁার ফী’র কথা জিজ্ঞেস করলেন । হেকিম সাহেব হেসে বললেন, টাকাকড়ি কিছুই দিতে হ’বে। না, আমি এমনিই চিকিৎসা করব। তখন স্থির হ’ল যে, সেদিন আর অস্ত্ৰ করা হবে না, পরদিন প্ৰাতঃকালে হেকিম সাহেব অস্ত্র করবেন। সে দিনরাত আমার যে কি দুর্ভাবনায় গেল, তা’ এতকাল পরে এখনও মনে আছে। কোথাকার কে, চিনি না, জানি না, তার হাতে চোখ দুটো সমৰ্পণ BB DDg DBS BD DDSS SSLLL BDD DBB BDBDS DDDLDD DBDDB BDS DSDB DDD দৃষ্টি থাকত, এবার হয়ত চিরদিনের মত অন্ধ হ'তে হ'বে। বড়দাদাও বার বার এই কথাই আন্দোলন করতে লাগলেন । কিন্তু হেকিমের ওপর বৃদ্ধ ঠাকুরদার এতই বিশ্বাস জন্মেছিল যে, তিনি কোন কথাই কৰ্ণপাত করলেন না। বড়ই উদ্বেগে সেই দিনরাত কেটে গেল । পরদিন প্ৰাতঃকালেই হেকিম সাহেব এসে হাজির হলেন, তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল না। তিনি বসেই তার দীর্ঘ চাপিকানের পকেট থেকে, কাগজে মোড়া লম্বামত কি একটা বার করলেন । আমার ত সেই জিনিষটা দেখেই মুখ শুকিয়ে গেল, বুক দুড় দুড় করতে লাগল, চোথেও জল এল । আমার সেই অবস্থা দেখে, হেকিম সাহেব আমার পিঠ চাপড়ে বললেন, “ডরে মত, বাচ্চা, কুচ দরদ নেই হোগা।” তারপর কাগজের মোড়ক খুললেন, দেখা গোল সূচের মত তীক্ষাগ্ৰ একপ্তানি অস্ত্ৰ । হেকিম বললেন, আমাকে শুতেও হ’বে। না, যেমন বসে’ আছি, তেমনি বসে’ থাকলেই চলবে। কোন অনুষ্ঠান আয়োজনের দরকার হ’ল না। হেকিম আমার ভান চোখের ওপরের পাতা বন্ধ করে, নাকের ঠিক পাশে তার সেই তীক্ষাগ্ৰ শলাকা সামান্য একটু বিধিয়ে দিলেন। সামান্য একটা কঁাটা ফুটলে যেমন বেদনা বোধ হয়, আমি ততটুকুই বেদনা বোধ করলুম। সুতরাং চীৎকার ‘আহা, উহু’ করতে হ’ল না। তিনি যখন শলাকাটা টেনে বার করলেন, তখন তারই সঙ্গে সঙ্গে প্রায় দু'ইঞ্চি মাপের একটা সরু শিরা বার হয়ে চোখের ওপর ঝুলতে লাগল। সেই শিরার এক অংশ অস্ত্র করার স্থানেই আটকে রইল। হেকিম সাহেব তার পকেট থেকে একটা কৌটা। বার করলেন। সেই কৌটার মধ্যে একটা মলম ছিল। ক্ষুদ্র একটু কাগজে সেই মলম লাগিয়ে ক্ষতস্থানের ওপর বসিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, চার পাঁচ দিনের মধ্যে ক্ষত শুকিয়ে যাবে, আর ঐ শিরাটা আপনা,