পাতা:আত্মজীবনী ও স্মৃতি-তর্পন - জলধর সেন.pdf/৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আত্মজীবনী ও স্মৃতি-তৰ্পণ Wy রাজা সূৰ্যকুমার গুহুরায়, ঢাকা বিভাগে মাইনর পরীক্ষায় যে ছাত্র ইতিহাসে সর্বোচ্চ নম্বর পাবে, তাকে তিনি একটি রৌপ্যপদক দিতে প্ৰতিশ্রুত ছিলেন । আমি ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্থান পেয়ে সেই পুরস্কার লাভ করেছিলুম। বড়দাদা মনেও করেননি যে আমি এমনভাবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হ’ব । তিনি স্থির করেছিলেন যে কোন রকমে মাইনর পাশ করে আমি মোক্তারী পরীক্ষার জন্যে প্ৰস্তুত হ’ব । তখন মাইনর পাশ করলেই মোক্তারী দেওয়া যেতো । সে সময়ে আমাদের যে অসুস্থা, তাতে উচ্চ শিক্ষালাভের কল্পনা কারও মনে হয়নি । কিন্তু মাইনর পরীক্ষায় আমার কৃতকাৰ্যতা দেখে বড়দাদা তার সে সঙ্কল্প ত্যাগ করলেন । আমার প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য প্ৰস্তুত হওয়াই স্থির হ’ল ! পরীক্ষা দেবার আগে ফি দাখিল করবার সময়ে যে ফরম পূরণ করতে হয়, তাতে বৃত্তি পেলে কোন স্কুলে পড়বে, লিখে দিতে হয়। আমাদের হেডমাষ্টার স্বৰ্গীয় কালীপ্রসন্ন বসু মশায় আমাকে জিজ্ঞাসা না করেই, বৃত্তি পেলে ফরিদপুর জেলা স্কুলে পড়বে, এই লিখে দিয়েছিলেন । আর তিনি যদি জিজ্ঞাসা করতেন, তাহলেও আমি যে কোন স্কুলের কথা লিখে দিতে বলতুম, বলতে পারি। না। কারণ আমি যে পরীক্ষায় পাশ হয়ে বৃত্তি পাবো, একথা স্বপ্নেও মনে করিনি। কোন রকমে পরীক্ষায় পাশ হ’য়ে মোক্তারী পরীক্ষা দেবো, এই আমার স্থির ছিল । সুতরাং যখন বৃত্তি পেলুম, তখন বিষম বিপদ উপস্থিত হ’ল। মাসিক ৫ টাকা বৃত্তি নিয়ে ফরিদপুরের মত জায়গায় পড়ার খরচ চালান বড়দাদার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব ছিল। মাসে আর তিন চার টাকা হ’ল, কোন রকমে ফরিদপুরে পূড়া চলতে পারতে। কিন্তু সে তিন চার টাকা দেওয়া ও বড়দাদার সাধোর বাইরে। আমার সৌভাগ্যক্রমে সেই সময়ে আমাদের গ্রামের পরলোকগত মোহিনীমোহন চক্ৰবৰ্ত্তী ফরিদপুরের ডেপুটী ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন । এই মোিহনীবাবুই পরে রাজকাৰ্য থেকে অবসর গ্ৰহণ করে কৃষ্টিয়ায় “মোহিনী মিল, স্থাপন করেন এবং সে মিল এখন বাঙ্গালা দেশের প্রতিষ্ঠাপন্ন কাপড়েবা কল কয়টির অন্যতম হয়েছে। প্রথমে মুন করেছিলুম ফরিদপুরে গিয়ে তঁরই আশ্ৰয় ভিক্ষণ করবো। কিন্তু একটা কারণে প্রথমে তার আশ্রয়ে शांe} श्व्न भो । গোয়ালন্দ স্কুল থেকে আমার সঙ্গে একটী ছাত্র মাইনর পাশ করেছিলেন । তঁর নাম শ্ৰীযুক্ত দক্ষিণারঞ্জন সেন। তিনি বি-এ পাশ করে এখনও গোয়ালনেই ওকালতি করছেন। তার বাবা উমেশচন্দ্ৰ সেন তখন গোয়ালন্দের একজন বড়