পাতা:আদায়ের ইতিহাস - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Vei কিছুদিন পরে চাকরী ছাড়া তার চেয়ে ঢের বেশী কঠিন হইয়া দাড়াইবে। তবে আর একটা কথা আছে। চাকরী না করিলেই বা এখন সে কি করিবে ? বড় একটা আদর্শ সামনে খাড়া রাখিয়া চুপচাপ ঘরে বসিয়া দিন কাটাইলে তো আর চলিবে না । নিজের জীবনকে সব দিক দিয়া সার্থক করিবার প্রতিজ্ঞ। সে গ্ৰহণ করিয়াছে, মানুষ হিসাবে তার যা প্ৰাপ্য সব সে আদায় করিয়া ছাড়িবে, জগৎকে বুঝাইয়া দিবে তার কাছে আর ফাকি চলিবে না ; কিন্তু সে সম্ভব করিবার জন্য সকলের আগে একটা উপায় তো তার খুজিয়া বাহির করা চাই ? ভাবিয়া চিন্তিয়া উপায় স্থির করার সময় অবশ্য সে পায় নাই, কিন্তু সময় পাওয়ার পরেও যদি সে স্থির করিতে না পারে ? যে পথে চলিলে নিচে নামিতে হইবে না, পিছনে হটিতে হইবে না, আগাইতে আগাইতে সার্থকতায় পৌছিতে পারিবে, সে পথ যদি খুজিয়া না পায় ? পথ খুজিয়া পাইলেও পথ ধরিয়া চলিবার ক্ষমতা যদি তার না থাকে ? গভীর বিষাদ অনুভব করিতে করিতে নিজেকে তার বড় এক আর অসহায় মনে হয়। আর নিজের মত জগতের প্রত্যেক মানুষকে এক মনে হয় বলিয়া নিজের অখণ্ড ও অবর্জনীয় একাকীত্বের বোঝা যেন দুঃসহ হইয়া উঠে। কত লোক চলিতেছে পথ দিয়া, কত চিন্তার ঢেউ উঠতেছে প্ৰত্যেকের মনে, কিন্তু কেউ কারও চিন্তার খবর রাখে না। কত কাছাকাছি সকলের দেহগুলি, তাড়াতাড়ি চলিতে গিয়া একটি দেহের সঙ্গে আর একটি দেহের কতবার ঠোকাঠেকি হইতেছে, কিন্তু একজনের জগৎ কি এতটুকু কাছে আসিতেছে আর একজনের জগতের ? এমন একটি মানুষও যদি . থাকিত-যে তার আপনি, যার সঙ্গে তার প্রকৃত যোগাযোগ আছে, হাসি-কান্না ছাড়াই যে বুঝিতে পারে সে সুখী কি দুঃখী, এখন তাকে সে জিজ্ঞাসা করিতে পারিত তার কি করা উচিত।