পাতা:আদায়ের ইতিহাস - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইতিহাস R(t সে কঁাদে, হাসাইলে সে হাসে। তাই কি রমলা তার মুখে হাসি ফুটাইয়া রাখিতে পারিয়াছে ? অন্য কোন মানুষ হইলে পারিত না ? এই একটা খট্‌কা ত্ৰিষ্টপের মনে জাগিয়া থাকে। রমলাই যে ধীরেনকে সুখী করিয়াছে তাতে কোন সন্দেহ নাই ; কিন্তু সেটা যে ধীরেনের ব্যক্তিত্বের অভাবের জন্য সম্ভব হইয়াছে তাও সে বিশ্বাস করিতে পারে না । ধীরেনের পরিচয়ও সে আজ ভাল করিয়া জানিয়া আসিয়াছে। দুর্বল পরনির্ভরশীল। হাবাগো বা মানুষ সে নয়। ত্ৰিষ্টুপের তাই মনে হয় শুধু ধীরেন নয়, যে কোন মানুষকে রমলা সুখী করিতে পারিত ; বিকারগ্ৰস্ত অস্বাভাবিক মানুষ ছাড়া । তাকেও পারিত । বিছানায় শুইয়া এই সব কথা ভাবিতে ভাবিতে আধা ঘুম আধাজাগরণের মধ্যে ত্ৰিষ্টপের চিন্তা ও কল্পনা জড়াইয়া যাইতে থাকে। সে যেন দেখিতে পায়—তাকে সুখী করার জন্য কুন্তলা প্ৰতীক্ষা করিয়া আছে। যে রকম একটি ছোট একতলা বাড়ীতে রামলা আর ধীরেন বাস করে, অবিকল সেই রকম একটি বাড়ীতে ঠিক রমলার মত সাজ করিয়া কুন্তলা কাঠের চেয়ারে বসিয়া আছে, তার কোলে একটি শিশু, তার গা ঘোঁসিয়া দাড়াইয়া আছে আরেকটি (NCR মণীশের বাড়ী যাওয়া সে বন্ধ করিয়া দিল। ধীরেনের বাড়ীতেও আর গেল না। রমলাকে দেখিলে মনে পড়িবে কুন্তলাও তারই মত। ধীরেনের পরিতৃপ্ত মুখ দেখিতে হইবে, মনে হইবে কুন্তলাকে নিয়া এমনি সুখের সংসারে পাতিতে কোন বাধা নাই। সে সুখশান্তি চায় না। ধীরেনের মত আনন্দোজ্জল হাসির বিনিময়েও সঙ্কীর্ণ খাচায় সে ঢুকিবে না। আর বিচার বিবেচনা নয়, বসিয়া বসিয়া লাভ লোকসানের হিসাব নিয়া মাথা ঘামানো নয়। যা”। সে ঠিক করিয়াছে তাই ঠিক। জগৎ চুলোয় যাক। মণীশ খোজ করিতে বাড়ী আসিল না, ক্ষিতীশও আসিল না ।