পাতা:আদায়ের ইতিহাস - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইতিহাস 88 মধ্যে। রাত প্ৰায় একটায় সে বাড়ী ফিরিয়াছিল। বাড়ীর সকলে জাগিয়াছিল। তার প্রতীক্ষায় । দরজা খোলার পর ভিতরে আলোয় আসিয়া দাড়াইলে তার চেহারা দেখিয়া মা চাপা সুরে আর্তনাদ করিয়া উঠিয়াছিলেন, ত্ৰিষ্টুপের মনে আছে। অবিনাশ কি যেন একটা প্রশ্ন করিয়াছিলেন। কিন্তু সে দাড়ায় নাই, কোন মতে ঘরে আসিয়া দরজা বন্ধ করিয়া দিয়াছিল। পৃথিবীর এলোমেলো টানে পড়িয়া যাওয়ার ভয়ে দু’হাতে চৌকীর প্রান্ত চাপিয়া ধরিয়া কিছুক্ষণ চিৎ হইয়া বিছানায় পড়িয়াছিল। তারপর এতক্ষণে ঘুম ভাঙ্গিয়াছে। জলকাদায় পিছল সরু গলিতে ঢোকার পর হইতে সুরু হইয়াছিল। তার ফুতি—দারুণ ভয়, উদ্বেগ ও প্ৰত্যাশার উত্তেজনায়। তারপর এক দেয়ালাচাপা বাড়ীর দোতলায় ছোট একটি ঘর-আলো আর ঠাসা আসবাবে সাজানো ঝলমল অদ্ভুত একটি ঘর। আর একটি মেয়ে--ঘরের মতই যার একটি ছোট দেহে দশটি দেহের গাদা করা সাজসজা । তারপর নেশা-জীবনে প্ৰথম মদের নেশা । চাপা কষ্ট আর তীব্র উন্মাদনার অদ্ভুত সমাবেশ-মাটির ভয়ঙ্কর টানে অবলম্বনহীন শূন্যে অবিরাম পড়ার মত শেষের দিকে নিকুঞ্জ ধেই-ধেই নাচিয়া ফুর্তি করিয়াছিল-বেঁটে-মোটা, ধীর-শান্ত নিকুঞ্জ, অল্পদিন আগে যে বিবাহ করিয়াছে দ্বিতীয় বার। কেমন মেয়েকে সে বিবাহ করিয়াছে ? কুন্তলার মত ? ঘরের সেই মেয়েটিকেও শেষের দিকে কুন্তলার মত মনে হইয়াছিল। কতবার সে যে নিজের মাথায় বাকি দিয়াছে ! কি অদ্ভুত, কি বিচিত্র, কি বীভৎস একটি রাত তার কাটিয়াছে কাল ; একটু মদ খাওয়া ছাড়া কিছুই সে করে নাই চুপি চাপ বসিয়া শুধু চাহিয়া রহিয়াছে। তবু তার মনে হইয়াছে, মুহুর্তে মুহুর্তে সে যেন উপার্জন করিতেছে এক অক্ষয় অমর সম্পদ । অভিজ্ঞতা নয়, চেতনার জাগরণ নয়, জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্টতা, জীবনের সঙ্গে সম্পর্কস্থাপন।