পাতা:আমার বাল্যকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


四时可引可可夺叫1 Y গাইলেন। সত্য বলিতে কি, আমি বাস্তবিকই কিছু উপভোগ করতে পারলাম না। আমার মনে হল যে, গানে না আছে সুর, না আছে ঝঙ্কার, না আছে সামঞ্জস্য। দ্বারকানাথকে এই কথা বলায় তিনি বল্লেন, “তোমরা সকলেই এক রকমের। যদি কোন জিনিস তোমাদের কাছে নতুন ঠেকে বা প্ৰথমেই তোমাদের মনোরঞ্জন করতে না পারে, তোমরা আমনি তার প্রতি বিমুখ। প্ৰথম যখন আমি ইটালীয় গীতবাদ্য শুনি, তখন আমিও তাতে কোন রস পাইনি, কিন্তু তবু আমি ক্ষান্ত হইনি ; আমি ক্ৰমাগত চর্চা করতে লাগিলাম। যতক্ষণে না আমি তার মধ্যে প্ৰবেশ করতে পারলাম। সকল বিষয়েই এইরূপ । তোমরা বল আমাদের ধর্ম ধর্মই নয়, আমাদের কাব্য কাব্যই নয়, আমাদের দর্শন দর্শনই নয়। ইয়োরোপ যাহা প্ৰকাশ করে আমরা চেষ্টা করি তাহা বুঝতে ও হৃদয়ঙ্গম করতে, কিন্তু তাই বলে ভারতবর্ষ যাহা প্ৰকাশ করে তাকে অবহেলা করি না। আমরা যেমন তোমাদের সঙ্গীতবিদ্যা, কাব্য, দর্শন আলোচনা করি, তোমরা যদি তাই করতে তাহলে তোমরাও আমাদের দেশের বিদ্যাগুলির মর্ম বুঝতে পারতে এবং আমাদের যে অজ্ঞ ও ভণ্ড মনে করা, বাস্তবিক আমরা তা নাই, বরং অজ্ঞাত বিষয়ে তোমরা যা জান, আমরা হয়তো তারো অধিক জানতে পেরেছি দেখতে ৷” বাস্তবিক তিনি নিতান্ত ভুল বলেন নি। “এই কথাগুলি বলতে বলতে তিনি ভারি উত্তেজিত হয়ে উঠলেন ; তাকে ঠাণ্ড করবার জন্য আমি অন্য বিষয়ের অবতারণা করে বল্লাম যে, “আমি শুনেছি যে ভারতীয় সঙ্গীতের উৎপত্তি অঙ্কশাস্ত্ৰ হইতে । আমি একবার সঙ্গীত শাস্ত্রের একটা সংস্কৃত খসড়া দেখেছিলাম। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না। প্রোফেসার উইলসন একজন সঙ্গীতজ্ঞ লোক এবং তিনি বহুবৎসর ভারতবর্ষে বাস করেছিলেন, সেইজন্য তঁকে আমি ঐ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং ভারতীয় সঙ্গীত-বিদ্যা শিখতে ইচ্ছা প্ৰকাশ করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে বিশেষ উৎসাহ দিলেন।