পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ও বলে--কি যে করে রাত অবধি ওরা। সাবিত্রী চুপ করে ওই শব্দগুলো শুনছে। বাইরের পথের আলো নিভে গেছে। দূরে কোথায় খন্ডযুদ্ধ বেধেছে। এ যেন নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে মানুষ প্রাণ হাতে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্যে অন্ন পান সংগ্রহের লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছে। সাবিত্রী মাকে দেখছে ও এখনও উৎকৰ্ণ হয়ে থাকে রাতের আঁধারে। ওই বােমাবাজি হানাহানির শব্দে শিউরে ওঠে। অশোকও অমনি উন্মাদ অন্ধকারে কোথায় হারিয়ে গেছে। সাবিত্রী তবু এই অতল তমসা আর সব হারানোর দিনেও তার নিজের জগতে বিচার স্বপ্ন দেখে { সুধাময়ী যেন সবকিছু তবু মেনে নেবার চেষ্টা করে। এদের সংসারে একটা দিন যায় বেদনার্ত অন্ধকার পার হয়ে অন্যদিন আসে। এরা। তবু দিন গোনে-হয়তো কোনো সখবর আসবে। বসন্তবাবু কেমন গম্ভীর হয়ে গেছেন। মানুষটা যেন আরও বুড়িয়ে গেছে কিসের ভাবনায়। ওঁর মনের সেই ভয় দ্বন্দ্ব আর সংঘাতের কথা এদের জানাতে পারেন না। সকালের ডাকে চিঠিখানা আসে অমৃতের নামে। একটা ইনটারভিউ এর চিঠি। এখানে নাকি চাকরীর আশা আছে। বসস্তবাবু স্বপ্ন দেখেন, মুক্তির স্বপ্ন। অমৃতের চাকরী হবে।--তিনি পটলের ওই চাকরী ছেড়ে দিয়েই আসবেন । অহরহ এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন তিনি। অমৃত তবু চিঠি পেয়ে আশার আলো দেখে না। তার কাছে। আশা স্বপ্ন কিছুই আর নেই। অমৃতের দিকে চেয়ে থাকেন বসন্তবাবু। কি আশ্বাসের সন্ধান করেছেন তিনি। ক্লান্ত স্বরে বলেন হারানো সেই মানুষটি। -একটা কিছু হােক তোর অমৃত, আমি আর পারছি না। বাবা। অমৃত তা জানে। কিন্তু বাবাকে বৃদ্ধ বয়সে এতটুকু শাস্তি দেবার সাধ্য তার নেই। So 8