পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১১১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—এ নিত্যকার ঘটনা। এ অঞ্চলের মানুষের যেন সয়ে গেছে। বোমাবাজি গুলীহানাহানির সময়টা এরা চুপচাপ ঘরের কোণে থাকে। আবার ও পর্ব শেষ হলে সাধারণ মানুষও বের হয়। দৈনন্দিন কাজে। যেন কোথাও কিছু হয় নি। তবু সাবধানে থাকে- যখন তখন একটা গোলমাল বেধে যেতে পারে। এই অনিশ্চিত জীবনে মানুষগুলো অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। ছেলের দল তবু মোড়ে মোড়ে সজাগ দৃষ্টি রাখে। কাজকর্ম তাদের নেই-চাকরীর আশাও দুরাশা। স্বাভাবিক জীবনযাত্রার স্রোতে তাই মাঝে মাঝে আবর্ত ওঠে, আবার থিতিয়ে পড়ে। অমৃত সকালবেলাতেই বাজার সেরে কি ভেবে রেলব্রিজ পার হয়ে পার্ক সার্কাসের দিকে এগিয়ে যায়। রাত্রির সঙ্গে অনেকদিন দেখা হয় নি, সেই সন্ধ্যায় গেছিল তারপর আর যাবার সুযোগ হয় নি। পথে ট্রামে দু'একদিন দেখা হয়েছে। রাত্রি তখনও চাকরীর আশায় ঘুরছে। তারপর দেখেছে কাল সন্ধ্যায় তাকে চৌরঙ্গীতে। অমৃতের মনের অতলে একটা সুপ্ত আশ্বাস কোথায় ছিল-হঠাৎ সেই স্বপ্নের অপমৃত্যুটাকে আরও গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করে তার মন কি বেদনায় ভরে উঠেছে। তবু মনে হয় যেটা দেখেছে সেটা রাত্রির জীবনে সত্য নয়। তাই চলেছে সে। সকালে এদিকে লোকচলাচল কম। দু’চারজন অফিসযাত্রী বের হয়েছে। অমৃত ওই ভাগ্যবানদের দিকে চেয়ে থাকে। ওদের তবু বঁাচার একটা উপায় আছে। আর সময়টাকেও এত যন্ত্রণাদায়ক বলে বোধ হয় না। তার কাছে সময়ের বোঝাটাই মাঝে মাঝে দুঃসহ হয়ে ওঠে। মনে হয় সে নিদারুণভাবে হেরে গেছে। দােতলার ফ্ল্যাটে উঠে গিয়ে দরজায় আর সেই কলিংবেলের চিহ্ন ও খুঁজে পায় না। বিবৰ্ণ নেমপ্লেটটার স্কুগুলো আলগা হয়ে গেছে, ওটা ফালতু কাঠের টুকরোর মত ঝুলছে। যে কোন সময় পড়ে যাবে, খসে যাবে। অমৃত দাঁড়ালো, মনে হয় এখানে আসার কোন যুক্তি নেই। এভাবে রাত্রির সামনে আসতে সে চায় নি, কিন্তু কেন জানে না সে নিজেকে የጓቨf§ 5§ ,ሳቖj--- 3g g?97 -~-br S SV)