পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাবিত্রী তখন আশা করতো সেও অমনি গান গাইবে। বাইবে অনুষ্ঠান করতে যাবে | আজ সেই অবস্থায় এসেছে সাবিত্রী। দেখছে সুলেখাদিকে নয, আজ তাকেই গাইতে নিয়ে যেতে চায় তারা। সুলেখাদির সুন্দর মুখে কালো ছায়াটা সাবিত্রীর দৃষ্টি এড়ায় নি। অস্তরের অতলে শিল্পীমান তার এই সাফল্যে খুশী হয়েছে, ততই নিজেকে যেন অপরাধী বোধ করছে সাবিত্রী। সুলেখাদিকে কথাগুলো বলে ভিতরে চলে এল। সুলেখাদি কি ভাবছে। সাবিত্রী যে ধাপে ধাপে উঠবে তা ভাবে নি। সুলেখা, ভেবেছিল দু’চারদিন গাইবার পর সাবিত্রী নিজেই গান ছেড়ে দেবে। কিন্তু তারই আশ্রয়ে থেকে এভাবে তার চেয়ে বড় শিল্পী হবে সাবিী একথাটা ভাবতে সুলেখার নারীমনও আজ বেদনা বোধ করে। হয়তো সুলেখা হিংসা করে সাবিত্রীকে। আবও লক্ষ্য করেছে সুলেখা, কাজল এখানে এসে ওঘর থেকে তন্ময় হয়ে সুলেখার গান শোনে। সুলেখা এটা চায় না। কাজলবাবু বলেন। -- তোমার সাবিত্রী তো বেশ গাইছে আজকাল ? সূলেখা নিজের কৃতিত্ব নেবার চেষ্টা করলেও এই প্ৰশংসাটাকে সহ্য করতে পারে না। ক্রমশ দুটি নারীর মধ্যে একটা পার্থক্য গড়ে উঠেছে। আজকে ওই অনুষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কথায় সূলেখাও বুঝেছে এটা এইবার প্রকট হযে উঠবে। তাই সুলেখা আজ সাবিত্রীকে ম্যুখে সমৰ্থন করলেও মনে মনে সহ্য করতে পারছে না। সাবিত্রীর এতদিনের হতাশাভরা মনটা ক্রমশ যেন নিজের ব্যক্তিত্ব আব্ব শিল্পীসত্তা নিয়ে জেগে উঠছে। সেও বুঝেছে তার নিজের যোগ্যতা আরও বেশীমাত্ৰাফ অর্জন করতে হবে। ওই অনুষ্ঠানে এসে অবাক হয় সাবিত্রী। এতবড় অনুষ্ঠানে ৩াকে গাইতে হবে ভাবেনি । বিরাট প্যান্ডেল তৈরী করা হয়েছে আর শিল্পী-সমাবেশও অভূতপূর্ব। ক্রমশ অবাক হয় সাবিত্রী এই শিল্পীদের মধ্যে কাজলবাবুকে দেখে। তিনি ওখানে বেশ প্রতিষ্ঠিত আরও বুঝতে পারে যে তাকে এখানে গাইবার ব্যবস্থা করেছেন কাজলবাবুই। ও কথা ܓ݁ܶܠ