পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তার পায়ের নীচে থেকে মাটি সরে যাচ্ছে বোধ হয়। বিবর্ণ রক্তহীন ফ্যাকাসে হয়ে ওঠে। ওর মুখ। তার সব স্বপ্ন একটু আশ্বাস সবকিছু নিঃশেষে হারিয়ে গেছে। আজও সুলেখাদিই বিজয়ীর মত তার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর হার মেনেছে-হারিয়ে গেছে সাবিত্রী। অন্ধকারে কোথায় আকাশ-বাতাস কঁপিয়ে যেন বাজ পড়েছে। হঠাৎ একটা আলোর দীপ্তি সাবিত্রীর চোখ ধাঁধিয়ে আবার হারিয়ে গেল চিরন্তন অতল তমসার भी । —সুলেখাদি! সবিত্রী অস্ফুটিকণ্ঠে আৰ্তনাদ করে ওঠে। সুলেখা বলে চলেছে।--কাজলবাবু বোধহয় বলৱেন কথাটা তোমাকেও ৷ ওসব শোনার শক্তি তার নেই। সাবিত্রী দু’হাত দিয়ে একটা সোফার হাতল ধরে নিজেকে সামলাবার চেষ্টা করছে। কাজলবাবু এসব কথাও জানায় নি। তাকে। কঁপিছে তার সারাদেহ, পায়ের নীচে মাটি যেন সরে যাচ্ছে। তার সব আশাআশ্বাস হারিয়ে গেল। এতদিন সে কোন আলেয়ার আলোর ইশারায় ফিরেছে বন্ধুর পথে, যেখানে কোনো আলো নেই-আছে শুধু আদিম অন্ধকার। এই অন্ধকারে সে আলোর স্বপ্ন দেখেছিল। এখানের সবকিছু আজ মিথ্যা হয়ে গেছে। ওদের কাছে অনেক পাবার আশা যা করেছিল, তা নিমেষেই অর্থহীন শূন্দতায় পরিণত হয়েছে। সব সুর তার আর্তনাদে অসহায় কান্নায় ভেঙে পড়ে। সুলেখার ছায়ামূর্তিটা গরবিনী-বিজয়িনীর ভঙ্গীতে তার সামনে জমাট বাধা প্রাচীরের মত দাঁড়িয়ে আছে, সাবিত্রীর সব পাওয়া সেখানের প্রচন্ড আঘাতে কাচের ফানুসের মত চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। সাবিত্রী কি অসহ্য বেদনায় বিবৰ্ণ হয়ে সরে আসছে। —সাবিত্ৰী! সুলেখা ডাকছে। ওকে। কিন্তু সাবিত্রী দাঁড়ালো না। ওই অন্ধকারেই সে বের হয়ে পড়েছে। ওই বাড়িটা আজ তার সব কেড়ে নিয়ে আবার পথের ধুলোতেই ঠেলে ফেলেছে। অসহায় ক্লাস্ত সর্বহার একটি মেয়ে শূন্য হাতে সব পাওয়াকে বিসর্জন দিয়ে আবার বের হয়েছে অনিশ্চিতের পথে। S 8 Sq,