পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অমৃতকে তাই ধরেছে সাবিত্রী। অমৃত অফিস থেকে ফিরে পড়াশোনা নিয়ে বসে। এবার এম-এ কমার্স দিয়ে দেবে সে। এতদিন ছন্নছাড়ার মত ঘুরেছে এবার তাই বঁাচার চেষ্টা করে। টুইশানির যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হয়েছে সে। সাবিত্রীকে ঢুকতে দেখে চাইল। ভাইবোনের মধ্যে এখন একটা মিষ্টি সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সাবিত্রী বলে-কথাটা ভেবে দেখেছিস দাদা ? এবার মায়ের দিকটাও দেখা। একা এক সারাদিন থাকে। হাসাল অমৃত-তোর নিজের ব্যাপারটা ? সাবিত্রীর মুখে ফুটে ওঠে একটা নীরব যন্ত্রণা। কাজলের ব্যাপারটা অমৃত সবই জানে। এও জানে সেখানে সাবিত্রী হেরে গেছে। অমৃত ওকথা বলে চুপ করে ওর দিকে চাইল। নিজেই অপ্ৰস্তত বােধ করে অমৃত। সাবিত্রী বলে-ওসব ইতিহাস হয়ে গেছে রে ? শিল্পীর জীবনে এই অভিশাপ সত্যি। তাই বলছিলাম তোর সেই রাত্রির এপিসোডটা একটু দ্যাখ না? অমৃত হাসল। -ওসব মনে আছে তোর ? সাবিত্রী বলে—এবার তোরও একটা আশা অন্ততঃ পূর্ণ হােক। আমাদের কেউ কি সুখী হবো না দাদা ? সাবিত্রীর কথাগুলো ভাবছে অমৃত। হারানো সেই সুরাটা স্নান সুরভির মত ভেসে আসে বাতাসে, কি যেন স্বপ্ন দেখছে (न ! তাই অমৃত ওই দিকেই গিয়েছিল। পার্কের গাছগুলোর দীঘল ছায়া পড়েছে। বৈকালের রোদ হলুদ হয়ে ঘাসে ছিটিয়ে পড়েছে। পুরোনো ফ্ল্যাট বাড়িটায় গিয়ে উঠে ওরপাশের ফ্ল্যাটের দরজায় দাঁড়ালো অমৃত। নেমপ্লেটটা খসে পড়েছে। মনে হয় কড়া নাড়তে বের হয়ে আসবে রাত্রি। ওর মিষ্টি মুখে ফুটে উঠবে অভিমানের কালো ছায়া। শুধোবে। -এতো দিন আসো নি কেন ? অমৃত জবাব দেবে—এবার আসার সময় হয়েছে রাত্রি। আজ অমৃত বাঁচার আশ্বাস পেয়েছে। তাই এসেছে রাত্রির কাছে কি স্বপ্নের সার্থকতার আশ্বাস নিয়ে। আজ অসিতবাবুর কথাটা মনে পড়ে। আজ তাকেও সেই আশ্বাস দেবে অমৃত। কড়াটা নাড়ছে। মনে হয় যেন দরজা খুলে বের হয়ে এসেছে রাত্রি । S (፩ \\ኃ