পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পথে এনেছিল সে সব কথা আজ অপ্রাসঙ্গিক। মনে রাখার দরকার নেই। উপরের তলায় উঠতে গেলে অনেক সিঁড়ি মাড়িয়ে ধাপে ধাপে উঠতে হয়। সেই সিঁড়িগুলোর খবরও তারপর আর কেউ রাখে না। রজনীবাবু তাই আজ ভুলে গেছেন তাকে। হতাশ বয়ে বসন্তবাবু বের হয়ে আসছেন। হঠাৎ কি ভেবে ওপাশের ফর্ম জমা নেবার কাউন্টারের সেই ভদ্রলোকটিকে বলেন তিনি। --দরখাস্ত আর ফর্মটা ঠিক জায়গায় যাবে তো বাবা ? ওই একমাত্র আশ্বাস তিনি পেতে চান, বাসস্তবাবুর কাছে রজনীবাবুর বদান্যতাও অর্থহীন বলে মনে হয়। তবু যদি দয়া করে তাঁরা কিছু করেন এইটা আশা করেই শুদ্ধোন কথাটা । ভদ্রলোক ওর দিক চাইল। বসন্তবাবুর চোখদুটাে চকচকে হয়ে ওঠে। গোবিন্দ সেন এতক্ষণ দেখছিল বুড়োকে। জানে সে এমনিই হয়। কর্তারা অনেকেই আগেকার চেনা হতদরিদ্র মানুষগুলোর সঙ্গ এড়িয়ে যেতে চায়, কারণ ওদের অনেকেই আসে। ওই একই কারণে কিছু দয়ার প্রত্যাশী হয়ে। তবু গোবিন্দ সেন এখানে বসে। অতীত ইতিহাসের অনেক বিস্মৃত চরিত্রকে দেখছে। তাই বলে সাত্ত্বিনা স্বরে { —হঁ্যা ঠিক পোঁছবে। বসন্তবাবু ওর কথাগুলো যেন শুনতে পান নি, (, কানরকমে বের হয়ে এলেন রাস্তায় বিবর্ণমুখে। রোদের তেজ কিছুটা কমেছে। এখন তত দাপট আর নেই। এর মধ্যেই রাস্তায় অপিসের কিছু লোকজনকে দেখা যায়, ওরা চলেছে বাড়ির দিকে। ফিরতি ট্রামের ভিড় শুরু হয়েছ। যাত্রীদল চলেছে বাড়ির দিকে। ট্রামে তেরটাি পয়সা নেবে এখান থেকে। তবু এসপ্ল্যানেড অবধি হেঁটে গেলে দশ পয়সায় হবে, আর যদি কোনরকমে বাকী পথ হেঁটে যেতে পারেন ওটাও বাঁচবে। বসন্তবাবু হাঁটতে হাঁটতে চলেছেন এসপ্ল্যানেডের দিকে। ময়দানে বোধহয় মিটিং আছে, সারবন্দী লোকজন চলেছে শোভাযাত্ৰা করে। তাদের ভিড়ে গাড়ি বন্ধ। রাস্তা ·文公