পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নামকরা গাইয়ে, রেকর্ডও আছে। রেডিওতে মাঝে মাঝে প্রোগ্রাম করেন। মেয়েরাও এসে গেছে ক্লাশে। তবলচী হারমোনিয়াম তানপুরার সুর মিলিয়ে তবলা বঁধেছে। সাবিত্রীর কানে ওই সুরাটা কি যেন আবেশ আনে। সাবিত্রীরও ইচ্ছে করে গানটা সেও আবার শিখবে। বাবার চাকরীতে থাকার সময় সাবিত্রী গান শিখেছিল। বাবা একটা পুরোনো হারমোনিয়ামও কিনে দিয়েছিলেন সেটাও খারাপ হয়ে ধুলো জমে পড়ে আছে। কাজলরা ওখানে থাকতে সাবিত্রীও গান গাইতো। কাজলের সুর ওই বাড়িতে প্ৰাণের আবেশ এনেছিল। আজ ওখানে শুধু হাহাকার আর যন্ত্রণা। ওই হতদরিদ্র মানুষগুলোর জগতে সুর ওঠে না-সব সুর সেখানে আর্তনাদ হয়ে ওঠে। সুলেখাও লক্ষ্য করেছে সাবিত্রীকে কিছুদিন ধরে। মেয়েটি অবস্থার চাপে পড়ে এখানে সামান্য মাইনেতে এই কাজ করতে এসেছে। মুখচোখে এখনও রয়ে গেছে ভদ্রঘরের সলজ নম্রতার ছায়া। ওরা দু'চোখে একটু বিচিত্র স্বপ্নের আভাস ফুটে উঠেছে। ওই সুরের ছোঁয়ায়। সুলেখা দেখেছে সাবিত্রীকে গানের ফাঁকে ফঁাকে। সাবিত্রী ওই গানের ভাষাগুলো জানে। --আমি চঞ্চল হে-- এ গানও সে গাইত, সেই সুখশাস্তির দিনগুলোর স্মৃতি মিশিয়ে আছে ওই সুরে। আরও কার কথা মনে পড়ে। তাদের পাশের ঘরে থাকতো তখন কাজলবাবুরা। কাজলবাবু তখন সবে গান গেয়ে নাম করছে। দরাজ ভরাটি গলা তাজা তরুণ কাজল মুখার্জি দরাজ প্ৰাণখোলা আবেগে হাসতো। মা আর ছেলের সংসার। মাও মাঝে মাঝে বাধা দিতো। —এ্যাই কাজল দিনরাত প্যা-পু চীৎকার দিয়ে তো বাড়ির লোককে অতিষ্ঠা করে তুলেছিস, পড়াশোনা গোল্লায় গেছে, আবার ওই হেঁড়ে গলায় ঠা-ঠা করে হাসির তুফান তুলবি যখন-তখন ? সাবিত্রীও এসে জমতো এঘরে, ও-ও কাজলকে রাগাবার জন্য বলতো । --ঠিক বলেছে মাসীমা। কাজলদা বলতো । —তবু ঝিমিয়ে পড়া বাড়িটাকে-এ বাড়ির মানুষগুলোকে নাড়া দিতে চাই মা। এরা যেন সব মরে গেছে। w