পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অমৃত একই ঘরে রয়েছে। এই বৃদ্ধ লোকটির সঙ্গে এ জগতের কোন যোগাযোগ নেই। ও যেন ইংরেজের অতীত শাস্তিমত্ততার প্রতীক। তাদেরই ভাবধারার ধারক এবং বাহক। আজও সেই যুগেই রয়ে গেছে। আজকের যুগে ওরা বাতিল প্রাণী। চলে যেতে যেতে অসিতবাবু তখনও গজগজ করেন। --অল রািট । ননসেন্স। অমৃত চুপচাপ কি ভাবছে। মিটমিটে আলো জুলছে একদিকে। পর্দাগুলোও এইবার ছিড়ে যাবে। এ বাড়ির দারিদ্র্যকে চেপে রাখার সব চেষ্টাই যেন কি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। তাই সেটা প্রকট হয়ে ফুটে উঠেছে। রাত্রি এসে ঢুকলাে। ওঁর মুখে অসহায় ভাব ফুটে উঠেছে। সে জানায়। —এককালে যে ভাবে বাস করেছেন বাবা এখন সে অবস্থার কিছুই নেই। সব বদলে গেছে। হঠাৎ ওঁর শরীর ভেঙে গেল। তারপর থেকেই এমনি হয়ে গেছেন। কিছু করার নেই। আর। অমৃতের কাছে ও যেন কৈফিয়তের সুরে কথাগুলো বলছে। অমৃত জানায়। --না, না। ওসব নিয়ে কিছুই মনে করি নি। রাত্রি ওর দিকে চাইল বিষন্ন চাহনি মেলে। হঠাৎ কড়াটা আবার নড়ে ওঠে। কৰ্কশ শব্দে। অমৃত লক্ষ্য করে রাত্রির মুখে ফুটে ওঠে বিবর্ণিতার ছায়া। অমৃতের মতে হয় এখানে না এলেই ভালো করতে সে। এদের ব্যক্তিগত জীবনে হঠাৎ অনধিকার প্রবেশ করে সে একটা গোলমালের সৃষ্টি করেছে। হয়তো রাত্রির পরিচিত কোনো ভদ্রলোক এসেছেন, তার সামনে অমৃতের এই উপস্থিতির জন্য বোধহয় বিব্রত বোধ করছে রাত্রি। তাই অমৃত জানায়। -अभि बद्ध२ ठेलेि। কড়াটা তীক্ষ স্বরে বেজে উঠেছে। রাত্ৰি জানে কে ডাকছে তাকে। অমৃত কি ভেবেছে সেটা অনুমান করে ওই সময়েও রাত্রির বিষগ্ন ঠোঁটে একটু হাসির নীরব আভাস জাগে। অমৃতও দেখেছে রাত্রিকে, কি এক রহস্যময়ী হয়ে উঠেছে সে। co