পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সে এর আগেও গেছে কোনো সহপাঠিনী না হয় পরিচিত মহিলার বাড়িতে। দেখেছে তাদের ব্যবহার। সব কিছু কৃত্রিমতা আর গিলটি করা ঔজ্জ্বল্যে ঝলমল । আজকের এই মেয়েটিকে খুব কাছ থেকে দেখেছে অমৃত। ওর কণ্ঠস্বরে ফুট ওঠে গাঢ়তার ছায়া। মনে হয় ও এক নিঃসঙ্গ। এই নগ্ন দারিদ্র্য আর ওই ব্যর্থ অতীতের মাঝে হারানো একটি মানুষের যন্ত্রণার জগৎকে দেখে ও ক্লাস্ত হয়ে পড়েছে। অমৃত বলে-দেখা হবে নিশ্চয়ই মাঝে মাঝে। রাত্রি জানায়-হলে કિો হব ! দু'হাত তুলে নমস্কার জানায়। অমৃত বের হয়ে এল। আজকের সন্ধ্যাটা অমৃতের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছে। পার্কের আবছা! অন্ধকারে তখনও লোকজন ঘোরাফেরা করছে। রেইনটি গাছের ছায়া-অন্ধকারে কাদের সচকিত হাসির শব্দ ওঠে। সব ছোট ছেলেমেয়ে হেসে গল্প করছে। অন্যদিকে অন্ধকারে আজ সারা শহরে চলেছে পাশবিক মত্ততা । মানুষ খুঁকছে বাঁচার জন্য। কেউ গর্জে উঠছে। তবু এই বহু বেদনা-বঞ্চনাকে ছাপিয়ে ওই হাসির ধারালো---প্ৰাণ-উচ্ছল শব্দ উঠছে ওখানে । অমৃতের মনে হয় বাইরের এই জীবনের অতলে একটি বেদনার স্রোত অস্তঃসলিলা ফন্ধুর মত বয়ে চলেছে, সেখানে জাগে শুধু শূন্যতার বেদনা। অনেক চাওয়া সেখানে ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘশ্বাসের হাহাকারে নিঃশেষ হয়ে যায়। সব কামনা সেখানে অর্থহীনহয়তো বিকৃতির কালোয় বিবর্ণ। সেই কঠিন জীবনকেই বারবার স্পর্শ করেছে অমৃত। তার পথের উপর এদেরই ভিড় । সেও এদেরই একজন। সাবিত্রী বাড়ি ফিরছে। সারাদিন পাখীগুলো বাসা ছেড়ে ঘুরে বেড়ায় আহার্যের সন্ধানে। আবার দিন শেষের অন্ধকার নামলে তারা ফিরে আসে হারানো কুলায়। আশ্রয়ের আশায় । ওরাও ফিরছে। অশোকও ফিরছে আজ। সাবিত্রী ও দেখেছে। ঘরে-বাইরে তার জীবনের সেই তমসাকে। মাও আগে এসব কথা বলতো। এখন তার মুখেও কড়া কথা শোনা যায়। মা তাকে শুনিয়ে বলে। G \S)