পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বদ্ধ ঘরের গরম উনুনের তাপে সুধাময়ী ঘামিছে। এই জ্বালা তার দেহে-মনে ছড়িয়ে পড়েছে। হঠাৎ লতিকার চড়া গলা শুনে সুধাময়ী চাইল। রান্নাঘরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে লতিকা। রাগে অপমানে ওর মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে উঠেছে। --মাসিমা ! নিতাই-এর ওদিকে কান খাড়া করে রেখেছে। মনে মনে খুশী হয়েছে সে। সুধাময়ী শুধোয় লতিকাকে । -আমাকে কিছু বলছে ? লতিকা জানায়-আপনার কাছে এসব কথা শুনবো ভাবি নি মাসীমা। অবাক হয় সুধাময়ী-কি বলছে তুমি ? লতিকা ওকে দেখেছে। সুধাময়ী বলে-কি ব্যাপার বলো দিখি ? লতিকা কথা বাড়ালো না। তাই জবাব দেয়—ওসব আর নোংরা ঘেঁটে লাভ নেই। --কি বলছে বাছা ? লতিকা বলে—কথাটা জানিয়ে গেলাম, আর যেন এসব কথা কোনদিন বলবেন না । লতিকা মেজাজ দেখিয়ে চলে গেল। সুধাময়ী ব্যাপারটা কিছু বুঝতে পারে না। নীরবে চেয়ে আছে। লতিকা কথাগুলো মুখের উপর ছুড়ে দিয়ে চলে গেল নিজের ঘরের দিকে। সুধাময়ী দেখে নিতাই এর মা কোথায় আশেপাশেই ছিল, আবছা অঙ্গদকারে ও এগিয়ে এসে সুধাময়ীকে গলা নামিয়ে শোনায়। —ডাট। বুঝলে এসব ডাট। একা ওর স্বোয়ামীই চাকরী করে, আর আমুর বাবা এতো নামকরা লোক-আমু কিনা তিনটে পাশ করা ছেলে, সব ফ্যালনা ? যা তা বল্লেই হ’ল ? হঠাৎ বাড়ির বাইরে একটা গাড়ি থামার শব্দে এবাড়ির ছন্নছাড়া মানুষগুলো চমকে ওঠে। এদের এখানে গাড়ি থামে মাঝে-সাঝে। সে গাড়ির নাম এ্যামবুলেন্স। সেবার (o