পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিচয়ের স্বীকৃতি দেবে। সাবিত্রীরও দাম বেড়ে যাবে। এদের সামনে নাটকীয়ভাবে। বুক কাঁপছে তার। V কিন্তু সে সব কিছুই হল না। কাজলবাবু ওদিকের ক্লাশে গিয়ে ঢুকেছে। সরল্যাদিই কঠিন কৰ্কশ গলায় বলে ওঠে সাবিত্রীকে। —এমন হাঁ করে সঙের মত দাঁড়িয়ে রইলে যে ? কথা কানে গেল না ? সাবিত্রীর কানে ওই শাসনির সুর একটা সচেতন ভাবকে ফিরিয়ে আনে। ও বিড়বিড় করে বলবার চেষ্টা করে। --যাচ্ছি দিদিমণি । সাবিত্রীর সব আশা যেন ব্যর্থ হয়ে গেছে। স্নান মুখে সে নেমে গেল সিঁড়ি দিয়ে। কাজলবাবু তাকে চেনে নি, চিনতে চেষ্টা করেছিল, হয়তো চিনতে চায় নি। আজকের জীবনে প্রতিষ্ঠিত একটি মানুষ তার অতীতের সেই দুঃখ-বেদনার দিনগুলোকে ভুলতে চায়। তাই সাবিত্রীকে সে চিনতে চাইবে না কোনদিনই। সাবিত্রী অন্ধকার অতলের বাসিন্দা, তাই তাকে সেই বিস্মরণের অতলেই থাকতে হবে। কাজলবাবু তাকে আজ চিনবে না। সাবিত্রীর মনে তবু একটা দৃঢ়তা জাগে। এই অবহেলার জবাব তাকে দিতে হবে। চুপকরে নীচে নেমে এল সাবিত্রী। মনে মনে কঠিন হয়ে উঠেছে সে। সেদিন কাজলের অবস্থার তুলনায় তাদের অবস্থা ভালো ছিল। তার বাবার রোজাকারও ছিল অনেক বেশী। মা প্রায়ই কাজলকে ডেকে খেতে দিতেন, কারণ কাজলের বুড়ি মা রোজ রান্নাও করতে পারতো না। কাজল বলতো সাবস্ত্রীকে। ---এভাবে তোমাদের বিব্রত করতে লজ্জা বোধ করি সাবিত্রী। সাবিত্রী জবাব দেয় নি। সেবার হারমোনিয়াম কিনতে কাজলের কিছু টাকা কম পড়ে। সাবিত্রীই বলেছিল মাকে। সুধাময়ীই জোর করে কাজলকে একশো টাকা দিয়েছিলেন। সেই কাজলবাবু আজি অন্য জগতের মানুষ। এসব কথা তার স্মরণে নেই। থাকার কথাও নয় । সাবিত্রী তৈরী হয়েছে এবার। কোন বাধা দ্বিধা তার নেই। নিজেই কেটলি নিয়ে কফি এনে কাজলবাবুর সামনে দেয়। বড়দিমণির ঘরে ও বসে আছে। সাবিত্রী তাকে কফির কাপটা তুলে দিল। বোধহয় হাতও কঁপিছিল একটু। তবু কাজল এগিয়ে এসেছে। - O