পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হাঁপাচ্ছে অশোক। জামায় পায়জামায় কাদার দাগ। মাঝে মাঝে রক্তের ছোেপও গাঢ়তর হয়ে লেগে আছে। ওর আদিম বন্য দুচোখ যেন জুলছে কি হিংস্রতায়। গোফ দাড়ি ঢাকা মুখে একটা নৃশংসতা ফুটে উঠেছে। সুধাময়ী চমকে ওঠে—কি করে এলি বােদর! অশোক ধমকে ওঠে-চুপ করো। বসস্তবাবু দেখছেন ছেলেকে। তিনিও এই জীবনের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু কোনদিন এমনি আত্মহননের পথে এগোন নি। তাদের শত্রুর বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছিলেন। অশোক সদৰ্পে জানায়। —ওরা হামলা করেছিল। ওদিকের ক্যাম্পে, আমরাও ছাড়ি নি। ওদের এখানেই চোট করেছি। হয়তো লাশ দাখিলাও হয়ে গেছে। ওদের। ওরা আত্মহননকে গৌরবান্বিত করে তুলতে চায় পুণ্যতম কর্তব্য বলে। তাদের মতকে এমনি রক্তমানেও চিহ্নিত করে রাখবে। বসন্তবাবু অবাক হন আজকের এই উন্মাদনাকে প্রত্যক্ষ করে। তার কাছে এটা নিছক উন্মাদ হিংস্রতা বলেই বোধ হয়। ঘূণাভরে শুধোেন তিনি অশোককে। —এই তোদের দেশসেবা, সমাজসেবা, রাজনীতি করা ? মতের অমিল হলে লড়াই করেও তাকে মুছে ফেলতে হবে? অশোক হাতের রক্তটা পকেটের নোংরা রুমালটায় মুছতে মুছতে বাবার দিকে চাইল। বুড়ো লোকটাকে সে মৃত অতীতের প্ৰেতাত্মা বলেই ভাবে। ও বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়তই খুঁকছে আর আপোস করে চলেছে কাঙ্গালীর মত বীচার সেই সুযোগটুকু পাবার জন্য। অশোক জানায় । -এ তুমি বুঝবে না। বুঝতে পারবে না। তুমিও সুবিধাবাদীর দাস। নইলে এতদিন বিপ্লবী সেজে আজ শেষ বয়সে মুখোশ খুলে ওই নোংরা পটল মিত্তিরের পা চেটে খাও ? লজ্জা করে না---এভাবে বেঁচে থাকতে ? সুধাময়ী ছেলের কথায় শিউরে ওঠে। br(፩