পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ংস আসছে। বুড়োর হাড়ে গত্তি লেগেছে। এসব হয় কোথেকে ? ওই মেয়ের রোজ করে । লতিকাও সায় দেয়—সেকি আর বুঝি না ? সাবিত্ৰী বিবৰ্ণ মুখে ওদের কথাগুলো শুনছে। নিতুকে দেখেছে সে। ওই বখাটে ছোড়াটা তাকে দেখলে শিষ দেয়। হাসে। নিতুর মা নিতুর সেই কথাগুলো শুনিয়ে চলেছে--নিতুই বলে ওটা বাজে মেয়ে। একেবারে জাহান্নামে গেছে টাকার জন্যে। ওই মা বুড়ো ব্যাপটাও তা জানে! সাবিত্রী নাকি কোন হােটেলে-মাগো মা! কি ঘেন্না ! এ বাড়িতে কি যে হচ্ছে ? লতিকা হাসছে খিলখিলিয়ে ওই রাসাল আলোচনা শুনে । সাবিত্রী বাথরুমের চটের পর্দার আড়ালে থমকে দাঁড়িয়েছে। মনে হয় এসব কথার জবাব দেবে। কিন্তু আগে হলে দিতো, চুটিয়ে ঝগড়াই করতো। এখন ওসব করার মত মানসিক অবস্থা তার নেই। তাই চুপ করে ওই সব কদৰ্য আলোচনাগুলো শুনে գՇi | সাবিত্রী জানে তার মাকে শুনিয়ে শুনিয়েও ওরা এই সব বিশ্ৰী আলোচনা করে, নানা ইঙ্গিতও করে। মায়ের মন তাই বিষিয়ে উঠেছে। পাড়াতেও দু-একজন মেয়ে, গিনী ছেলেরাও তাকে দেখে এখন বিস্মিত। হয়তো নীরব ঘূণািভরা চাহিনীতে চেয়ে থাকে। তার অর্থ আর উদ্দেশ্য জেনেছে সাবিত্রী। ঘরে বাইরের এই আঘাত। ওদের বিষিয়ে ওঠা কথাগুলো কাজলের নীরব অবহেলা সাবিত্রীর সারা মনে একটা নির্জন নিঃসঙ্গতা এনেছে। এনেছে, তীব্র বেদনার জুলা। মায়ের ওই ইঙ্গিতটাও ক্রমশঃ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কিন্তু অসীম ধৈর্যের সঙ্গে সাবিত্রী সব কিছু সহ্য করে চলেছে। আর এগিয়ে চলেছে তার পথে। একদিন সে প্রমাণ করবে। এদের এসব কথা মিথ্যা, অর্থহীন। সাবিত্রী এসবের অনেক ওপরে। চটের পর্দাঘেরা বাথরুম থেকে বের হয়ে এল গায়ে মাথায় জল ঢেলে ঠান্ডা হয়ে } মা সাবিত্রীর দিকে চেয়ে আছে। S